মাদারীপুরে ভোটকেন্দ্র সরানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অনশন
- আপডেট সময় : ০৩:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে সাত গ্রামের মানুষ যে কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আসছেন, হঠাৎ সেই কেন্দ্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন তারা। মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ভোটারদের সুবিধাজনক স্থান থেকে কেন্দ্রটি সরিয়ে দূরের একটি বিদ্যালয়ে নেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরকারি সিডস্টোর ভবনের সামনে স্থানীয়রা এ কর্মসূচি পালন করেন এবং বর্তমান ভোটকেন্দ্রটি আগের স্থানেই বহাল রাখার দাবি জানান।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, ২০০৩ সাল থেকে সরকারি সিডস্টোর ভবনটি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কেন্দ্রটি সাতটি গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকায় নারী, বয়স্ক ও সাধারণ ভোটারদের জন্য যাতায়াত করা সহজ। সম্প্রতি কেন্দ্রটি সরিয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন ফরাজীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানতে পারেন স্থানীয়রা। এরপর থেকেই শুরু হয় প্রতিবাদ।
তাদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত বিদ্যালয়টি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত এবং সেখানে এই ওয়ার্ডের কোনো ভোটারের বসতবাড়ি নেই। ফলে কেন্দ্রটি সেখানে সরানো হলে সাত গ্রামের অনেক ভোটারকে অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হবে, যা বিশেষ করে নারী, বয়স্ক, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল ভোটারদের দুর্ভোগ বাড়াবে। ভোটারদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দীর্ঘদিনের বর্তমান কেন্দ্রটি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মানববন্ধনে আবুল বাশার, হেদায়েত খান, ফজেল হাওলাদার, সুমন ফরাজী, সাবিনা ও সুরভি সাহেদাসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন। কর্মসূচিতে সাত গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। এর আগে কেন্দ্রটি বহাল রাখার দাবিতে গত ৩০ জুলাই মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন বাসিন্দা। আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, সরকারি সিডস্টোর ভবনটি ভোটারদের জন্য সুবিধাজনক হলেও ফরাজীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ওয়ার্ডের প্রান্তে হওয়ায় সেখানে কেন্দ্র স্থানান্তর করলে যাতায়াতে ভোগান্তি তৈরি হবে।
মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ জানান, উভয় পক্ষের লোকজনই এ বিষয়ে আবেদন করেছেন এবং তাদের নিয়ে গণশুনানিও হয়েছে। শুনানিতে সন্তুষ্ট না হয়ে বিভাগীয় শহরে পুনরায় তদন্তের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
























