মিরপুরে ভেঙে দেওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে সড়কে টিকাদান, চরম ভোগান্তি
- আপডেট সময় : ০২:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর চরম ভোগান্তির মধ্যে খোলা সড়কের পাশে শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সেন্টারের মূল ফটকের বাইরে অস্থায়ীভাবে টেবিল ও চেয়ার পেতে শুরু হয়েছে হাম টিকাদান কর্মসূচি। মাথার ওপর একটি ত্রিপল টানিয়ে তৈরি করা এই অস্থায়ী কেন্দ্রে এসে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে টিকা নিতে আসা শিশু, তাদের মা এবং নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি সেখানে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। এরপর তারা মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা, নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এবং ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে, তবে মামলার এজাহারের কপি এখনো তাদের হাতে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
সেন্টারটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানান, কেন্দ্রটি ভেঙে ফেলায় খোলা জায়গায় ত্রিপল খাটিয়ে সাময়িকভাবে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আশপাশের বাসিন্দারা এতে সহযোগিতা করছেন। তিনি বলেন, 'আমাদের এখানে অনেক শিশু আসবে। তাই ফাঁকা জায়গায় অস্থায়ী এই ব্যবস্থা করেছি। তবে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা এখন আর আগের মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।' চারজন চিকিৎসক এবং নার্স ও প্যারামেডিকসহ প্রায় ১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী এই কার্যক্রমে নিয়োজিত আছেন। তবে স্বাভাবিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসকদের নিয়মিত পরামর্শ বন্ধ থাকায় অন্যান্য চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে। কিছু রোগীকে কেবল প্রেসক্রিপশন দেওয়া যাচ্ছে।
সেবা নিতে আসা মায়েরা খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়ছেন। ময়মনসিংহ থেকে বাবার বাড়িতে আসা আফসানা আক্তার তাঁর ১৫ মাস বয়সী ছেলেকে শেষ টিকাটি দিতে এসে অবাক হয়ে যান। তিনি বলেন, আগে ভেতরে বসে স্বস্তিতে টিকা দেওয়া যেত, কিন্তু এবার বাইরে এসে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তিন মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে আসা আয়েশা বেগম জানান, গরমে তাঁর সন্তান কান্নাকাটি করছে এবং বাইরে দাঁড়িয়ে থাকায় তাদের প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে। আগে থেকে পরিস্থিতি না জানা অনেক মানুষ আলট্রাসনোগ্রামসহ অন্যান্য সেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের টিকাদান, প্রজনন স্বাস্থ্য, শিশু স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে আসছিল। আকস্মিক এই ধ্বংসযজ্ঞের পর বর্তমানে সাধ্যমতো কেবল টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখা হলেও অন্যান্য সেবার জন্য রোগীদের আশপাশের কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




























