ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই: অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক সংবিধান সংশোধনের নামে নতুন গণভোট জাতির সাথে তামাশা: রাশেদ প্রধান কিছু করে দেখান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘ছোটদের সময় প্রকাশনী’র ৮ নতুন বইয়ের প্রকাশ কৃষকরাই দেশের শ্রেষ্ঠ মানুষ, তাদের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ: রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদপুরে জমি দখলের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই কর্ণফুলী ইপিজেডে ২০ বছরে বিনিয়োগ ৪১২ গুণ বৃদ্ধি নদীর সংখ্যা আছে, কিন্তু প্রাণ হারিয়েছে বাংলাদেশের নদ-নদী আলোকঝাড়ীর ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের মৃত্যুতে হুইপের শোক চট্টগ্রাম আদালতে নারীকে টেনেহিঁচড়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

নানা সংকটে বিপর্যস্ত মানিকগঞ্জের চরাঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আমার দেশ ডেস্ক: প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬: ৫৩ (26-09-2026, 06:53)

মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো নানা সংকটে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। উত্তাল নদী পাড়ি দিয়ে যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ, শিক্ষক ও আবাসন সংকট, নদীভাঙন, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, মোবাইল নেটওয়ার্কের বিপর্যয় এবং অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে চরের বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা না থাকায় চরাঞ্চলের এই প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবালয়ের আলোকদিয়া, মধ্যনগর, গঙ্গাপ্রসাদ, ত্রিশুণ্ডি; দৌলতপুরের বাগুটিিয়া, চরকাটারি, বাঁচামারা এবং হরিরামপুরের পদ্মা নদীবেষ্টিত আজিমনগর, লেছড়াগঞ্জ ও সুতালড়ি এলাকা দুর্গম চরাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এই তিন উপজেলায় মোট ৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যার মধ্যে হরিরামপুরে ১৩টি, শিবালয়ে ৫টি এবং দৌলতপুরে ৩৯টি। এসব বিদ্যালয়ে বর্তমানে মোট ২৩৫ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন, যার মধ্যে হরিরামপুরে ৪৯ জন, শিবালয়ে ১৭ জন এবং দৌলতপুরে ১৬৯ জন। তবে সুতালড়ি রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বাকি বিদ্যালয়গুলোতেও তীব্র শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। আটটি বিদ্যালয়ে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই এবং বেশিরভাগ স্কুলেই একাধিক সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটের প্রধান কারণ যাতায়াত ব্যবস্থার চরম দুরবস্থা। নদীভাঙন ও নৌকার ওপর নির্ভরশীল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সমতল এলাকা থেকে প্রতিদিন শিক্ষকদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। নৌযান সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া এবং মাঝিদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে শিক্ষকদের নিয়মিত ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক শিক্ষককে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয়, যাতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। এতে যাতায়াত বাবদ শিক্ষকদের বেতনের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়ে যায়।

এ বিষয়ে এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরমান আলী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘যাতায়াতে প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা সময় চলে যায়। খরচ হয় প্রায় ৩০০ টাকা। বর্ষায় সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যায়। কিন্তু এ জন্য আমাদের কোনো ভাতা নেই।’ চরাঞ্চলে কাজ করার জন্য বিশেষ কোনো যাতায়াত সুবিধা বা দুর্গম এলাকার ভাতা না থাকায় শিক্ষকরা চরম আর্থিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে পড়ছেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে নিরাপদ যাতায়াত ও আবাসনের অভাব সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

শুধু শিক্ষক সংকটই নয়, চরের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও উদ্বেগজনকভাবে কম। চরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তারা সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর চেয়ে পারিবারিক ও কৃষিকাজে সাহায্য করাকে বেশি গুরুত্ব দেন। এর পাশাপাশি চরাঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্কের চরম দুর্বলতার কারণে শিক্ষকরা পরিবার বা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেন না। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে শিক্ষক ও তাদের পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। প্রতিকূল আবহাওয়ায় সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে না পেরে শিক্ষকরা অনেক সময় প্রশাসনিক জটিলতার মুখেও পড়েন। এছাড়া বদলি প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে চরাঞ্চলে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা দীর্ঘদিন একই বিদ্যালয়ে আটকে থেকে হতাশায় ভুগছেন।

এ প্রসঙ্গে মানিকগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথ জানান, সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। এটি সম্পন্ন হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনাই এই দীর্ঘদিনের সংকট দূর করতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক নাজমুন সুলতানা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। কর্মস্থলে থেকে কাজ করার বিকল্প নেই। আমরা চরে শিক্ষকদের আবাসনব্যবস্থা করার কথা ভাবছি।’

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

নানা সংকটে বিপর্যস্ত মানিকগঞ্জের চরাঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম

আপডেট সময় : ০৮:০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমার দেশ ডেস্ক: প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬: ৫৩ (26-09-2026, 06:53)

মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো নানা সংকটে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। উত্তাল নদী পাড়ি দিয়ে যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ, শিক্ষক ও আবাসন সংকট, নদীভাঙন, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, মোবাইল নেটওয়ার্কের বিপর্যয় এবং অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে চরের বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা না থাকায় চরাঞ্চলের এই প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবালয়ের আলোকদিয়া, মধ্যনগর, গঙ্গাপ্রসাদ, ত্রিশুণ্ডি; দৌলতপুরের বাগুটিিয়া, চরকাটারি, বাঁচামারা এবং হরিরামপুরের পদ্মা নদীবেষ্টিত আজিমনগর, লেছড়াগঞ্জ ও সুতালড়ি এলাকা দুর্গম চরাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এই তিন উপজেলায় মোট ৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যার মধ্যে হরিরামপুরে ১৩টি, শিবালয়ে ৫টি এবং দৌলতপুরে ৩৯টি। এসব বিদ্যালয়ে বর্তমানে মোট ২৩৫ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন, যার মধ্যে হরিরামপুরে ৪৯ জন, শিবালয়ে ১৭ জন এবং দৌলতপুরে ১৬৯ জন। তবে সুতালড়ি রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বাকি বিদ্যালয়গুলোতেও তীব্র শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। আটটি বিদ্যালয়ে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই এবং বেশিরভাগ স্কুলেই একাধিক সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটের প্রধান কারণ যাতায়াত ব্যবস্থার চরম দুরবস্থা। নদীভাঙন ও নৌকার ওপর নির্ভরশীল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সমতল এলাকা থেকে প্রতিদিন শিক্ষকদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। নৌযান সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া এবং মাঝিদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে শিক্ষকদের নিয়মিত ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক শিক্ষককে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয়, যাতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। এতে যাতায়াত বাবদ শিক্ষকদের বেতনের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়ে যায়।

এ বিষয়ে এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরমান আলী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘যাতায়াতে প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা সময় চলে যায়। খরচ হয় প্রায় ৩০০ টাকা। বর্ষায় সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যায়। কিন্তু এ জন্য আমাদের কোনো ভাতা নেই।’ চরাঞ্চলে কাজ করার জন্য বিশেষ কোনো যাতায়াত সুবিধা বা দুর্গম এলাকার ভাতা না থাকায় শিক্ষকরা চরম আর্থিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে পড়ছেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে নিরাপদ যাতায়াত ও আবাসনের অভাব সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

শুধু শিক্ষক সংকটই নয়, চরের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও উদ্বেগজনকভাবে কম। চরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তারা সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর চেয়ে পারিবারিক ও কৃষিকাজে সাহায্য করাকে বেশি গুরুত্ব দেন। এর পাশাপাশি চরাঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্কের চরম দুর্বলতার কারণে শিক্ষকরা পরিবার বা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেন না। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে শিক্ষক ও তাদের পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। প্রতিকূল আবহাওয়ায় সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে না পেরে শিক্ষকরা অনেক সময় প্রশাসনিক জটিলতার মুখেও পড়েন। এছাড়া বদলি প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে চরাঞ্চলে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা দীর্ঘদিন একই বিদ্যালয়ে আটকে থেকে হতাশায় ভুগছেন।

এ প্রসঙ্গে মানিকগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথ জানান, সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। এটি সম্পন্ন হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনাই এই দীর্ঘদিনের সংকট দূর করতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক নাজমুন সুলতানা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। কর্মস্থলে থেকে কাজ করার বিকল্প নেই। আমরা চরে শিক্ষকদের আবাসনব্যবস্থা করার কথা ভাবছি।’

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh