ঢাকা ০৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শাহজালাল বিমানবন্দরে ২৮ লাখ টাকার সিরিঞ্জসহ নারী যাত্রী আটক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন আইনমন্ত্রী মিরপুরে ধ্বংসস্তূপের সামনেই চলছে রাড্ডা সেন্টারের স্বাস্থ্যসেবা বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কায় বাংলাদেশ: আমরা কি প্রস্তুত নাকি কেবলই কল্পনা? নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনন্ত আম্বানির নিয়োগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক অক্টোবরের মধ্যেই জিয়াউলের গুম মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষের আশা দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে চিরিরবন্দরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি, বিজয় সুসংহত করতে হবে: ইরানি সেনাপ্রধান আল্লাহর বিধান ছাড়া প্রকৃত শান্তি অসম্ভব: মিয়া গোলাম পরওয়ার

ফুলেল শ্রদ্ধায় শেষবিদায় জানানো হলো শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেনকে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:১৮:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয় প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ও ছড়াকার আখতার হুসেনের মরদেহ। ছুটির দিনের সকালে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা প্রিয় এই সাহিত্যিককে শেষ শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পগোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, শিক্ষা সংস্কৃতি আন্দোলন, সাংস্কৃতিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুলেল শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করেন। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং জাতীয় সংগীত ও ছাত্র ইউনিয়নের সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তাঁকে বিদায় জানানো হয়।

স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আখতার হুসেনের ছোট ছেলে প্রমিত হুসেন বাবার মানবিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, অসুস্থ থাকাকালীন সময়েও বাবা শিল্পীদের দুর্দশা নিয়ে ব্যথিত ছিলেন এবং শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ রেখে গিয়েছিলেন। প্রমিত বলেন, "আমার বাবা একজন মানবিক মানুষ ছিলেন। তিনি সব সময় মানুষকে ভালোবাসতেন, সবার ভালো চাইতেন।"

১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করা আখতার হুসেনের পৈতৃক নিবাস নাটোরের লালপুর উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামে। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে তিনি শতাধিক মৌলিক গ্রন্থ, জীবনী ও সম্পাদিত গ্রন্থ রচনা করেছেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত পাঁচ খণ্ডের ‘শিশু-বিশ্বকোষ’-এ সর্বাধিক ভুক্তি লেখার কৃতিত্ব তাঁর। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা পেয়েছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন এবং ছাত্র ইউনিয়ন ও খেলাঘরের জনপ্রিয় সংগীত ‘আমরা তো সৈনিক, শান্তির সৈনিক’-এর রচয়িতা। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত তাঁর লেখা গান ‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে জাগছে বাঙালিরা’ আজও জাতির গৌরবের সাক্ষী হয়ে আছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আখতার হুসেন মৃত্যুবরণ করেন। একই দিন বাদ মাগরিব তেজগাঁওয়ের রেলওয়ে জামে মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় তাঁর মরদেহ সিরাজগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করার কথা রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ফুলেল শ্রদ্ধায় শেষবিদায় জানানো হলো শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেনকে

আপডেট সময় : ০৪:১৮:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয় প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ও ছড়াকার আখতার হুসেনের মরদেহ। ছুটির দিনের সকালে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা প্রিয় এই সাহিত্যিককে শেষ শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পগোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, শিক্ষা সংস্কৃতি আন্দোলন, সাংস্কৃতিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুলেল শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করেন। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং জাতীয় সংগীত ও ছাত্র ইউনিয়নের সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তাঁকে বিদায় জানানো হয়।

স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আখতার হুসেনের ছোট ছেলে প্রমিত হুসেন বাবার মানবিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, অসুস্থ থাকাকালীন সময়েও বাবা শিল্পীদের দুর্দশা নিয়ে ব্যথিত ছিলেন এবং শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ রেখে গিয়েছিলেন। প্রমিত বলেন, "আমার বাবা একজন মানবিক মানুষ ছিলেন। তিনি সব সময় মানুষকে ভালোবাসতেন, সবার ভালো চাইতেন।"

১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করা আখতার হুসেনের পৈতৃক নিবাস নাটোরের লালপুর উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামে। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে তিনি শতাধিক মৌলিক গ্রন্থ, জীবনী ও সম্পাদিত গ্রন্থ রচনা করেছেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত পাঁচ খণ্ডের ‘শিশু-বিশ্বকোষ’-এ সর্বাধিক ভুক্তি লেখার কৃতিত্ব তাঁর। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা পেয়েছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন এবং ছাত্র ইউনিয়ন ও খেলাঘরের জনপ্রিয় সংগীত ‘আমরা তো সৈনিক, শান্তির সৈনিক’-এর রচয়িতা। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত তাঁর লেখা গান ‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে জাগছে বাঙালিরা’ আজও জাতির গৌরবের সাক্ষী হয়ে আছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আখতার হুসেন মৃত্যুবরণ করেন। একই দিন বাদ মাগরিব তেজগাঁওয়ের রেলওয়ে জামে মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় তাঁর মরদেহ সিরাজগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করার কথা রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo