আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৭, উড়ে গেল ঘরবাড়ির চাল ও দেয়াল
- আপডেট সময় : ০২:৩৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

আশুলিয়ার জামগড়ায় সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যার এই ঘটনার পর ২০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার পৌনে সাতটার দিকে জামগড়ার প্রিটি গ্রুপের একটি কারখানা চত্বরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুন ও কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় চারপাশ। একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আতঙ্কিত মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। স্থানীয় সবজি বিক্রেতা ও দোকানদারেরা দোকান ফেলে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালান। তীব্র বিস্ফোরণে আশপাশের দোকানপাট ও বিভিন্ন ভবনের কাচের জানালা ভেঙে পড়ে।
দুর্ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী দরজি দোকানের মালিক মোবারক হোসেন (৫৫) জানান, তিনি দোকানে কাজ করার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে কাচ ভেঙে পড়ে এবং চারদিক কালো ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। কোনো রকমে বের হয়ে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। অন্যদিকে, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে একটি দোতলা বাড়ির দেয়ালে লোহার একটি বড় টুকরো আঘাত হানে। এতে দেয়াল ফুটো হয়ে ঘরের আসবাবপত্র ও ইট ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বাড়ির গৃহিণী নাজমা জানান, মাত্র ছয় মাস আগে তৈরি করা নতুন এই ভবনটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং তারা আতঙ্কিত হয়ে নিচে নেমে আসেন।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় লোহার টুকরো ও আস্ত গ্যাস সিলিন্ডার উড়ে গিয়ে আশপাশের বাড়িঘরে আছড়ে পড়েছে। প্রায় ৫০ গজ দূরে একটি মাজারসংলগ্ন বাড়ির মালিক আইনাল মীরের টিনের চালের ওপর তিনটি সিলিন্ডার উড়ে এসে পড়ে। এতে চালের একাংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। পাশের আরেকটি বাড়ির মালিক ওয়ালী মীর জানান, ঘটনার সময় তিনি দোকানে ছিলেন এবং ফিরে এসে দেখেন তাঁর টিনের চালের ওপর একটি সিলিন্ডার পড়ে আছে এবং ঘরের ভেতরে অনেক ক্ষতি হয়েছে। সোমবার সকালেও মাজারের পাশে একটি বড় সিলিন্ডার দেখতে উৎসুক মানুষ ভিড় জমান। স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, জীবনে এমন ভয়াবহ ঘটনা তিনি কখনো দেখেননি।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ছাড়া কারখানার অদূরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এক নারী এবং রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম সোমবার দুপুরে জানান, নিহত সাতজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
রুমের ভেতরে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’.আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে একটি মাজারের পাশে মানুষের ভিড়।
আজ দুপুর ১২টার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।



























