ঢাকা ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ৫ গুণ বাড়ালো ইসি মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা নোয়াখালীতে নিম্নমানের সেতু নির্মাণ, দুই প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সাবেক সাত এমপি ও তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা আপা আর ফিরে আসবে না, খুনিদের ছাড় নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বারিধারায় গাড়িচাপা: কিশোর চালক আজান আলী শরীফ অবশেষে গ্রেপ্তার সম্ভাবনা থেকে সংকটে গণঅধিকার পরিষদ: রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই মাস্টার্স পরীক্ষার আগেই বিচারক হলেন ইবির রাজু আহমেদ

জবিতে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে যুবককে মারধর, পরে ছাত্রদলের দুই পক্ষে সংঘর্ষ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) এলাকায় ছাত্রলীগ সন্দেহে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেছেন ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে আজ সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, বিভিন্ন অনুষদ চত্বর ও ক্যাম্পাসের আশপাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। দুপুর ১২টার দিকে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে এক যুবক রিকশায় বসে ছাত্রদলের কার্যক্রম দেখছিলেন। একপর্যায়ে তিনি হঠাৎ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ধাওয়া দিয়ে তাঁকে ধরে ফেলেন এবং ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে নিয়ে আসেন। সেখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

আটক হওয়া ওই যুবকের বাড়ি বরগুনায় বলে দাবি করেছে ছাত্রদল। তাদের দাবি, ওই যুবক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং তাঁর মুঠোফোনে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রমাণ মিলেছে। তবে মারধরের শিকার ব্যক্তি নিজেকে রিকশাচালক বলে দাবি করেছেন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ছাত্রদল এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। আটকের পর তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য তাঁকে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি সুস্থ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

কর্মসূচি চলাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পরও নিষিদ্ধ সংগঠনের যে অপতৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের অবস্থান সব সময় সুস্পষ্ট।

এদিকে, এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুরের পর ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে আসে এবং দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আরেফিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সামনে, প্রধান ফটক ও বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় কয়েক দফায় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিকেলের দিকে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

জবিতে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে যুবককে মারধর, পরে ছাত্রদলের দুই পক্ষে সংঘর্ষ

আপডেট সময় : ১০:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) এলাকায় ছাত্রলীগ সন্দেহে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেছেন ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে আজ সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, বিভিন্ন অনুষদ চত্বর ও ক্যাম্পাসের আশপাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। দুপুর ১২টার দিকে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে এক যুবক রিকশায় বসে ছাত্রদলের কার্যক্রম দেখছিলেন। একপর্যায়ে তিনি হঠাৎ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ধাওয়া দিয়ে তাঁকে ধরে ফেলেন এবং ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে নিয়ে আসেন। সেখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

আটক হওয়া ওই যুবকের বাড়ি বরগুনায় বলে দাবি করেছে ছাত্রদল। তাদের দাবি, ওই যুবক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং তাঁর মুঠোফোনে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রমাণ মিলেছে। তবে মারধরের শিকার ব্যক্তি নিজেকে রিকশাচালক বলে দাবি করেছেন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ছাত্রদল এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। আটকের পর তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য তাঁকে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি সুস্থ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

কর্মসূচি চলাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পরও নিষিদ্ধ সংগঠনের যে অপতৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের অবস্থান সব সময় সুস্পষ্ট।

এদিকে, এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুরের পর ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে আসে এবং দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আরেফিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সামনে, প্রধান ফটক ও বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় কয়েক দফায় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিকেলের দিকে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo