সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনের ঐতিহাসিক ভবনগুলো
- আপডেট সময় : ০৪:৪৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪: ৪৬
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনের ব্রিটিশ আমলের পুরোনো স্থাপনাগুলো দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এসব ভবনের ভারী ইটের গাঁথুনি, দরজা-জানালা এবং লোহা ও ইস্পাতের অ্যাঙ্গেল খসে পড়ছে। এছাড়া জংশনের পাকা প্ল্যাটফর্মগুলোও ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যেকোনো সময় এসব জরাজীর্ণ ভবনের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অথচ ঐতিহাসিক এই জংশনটি সংস্কারের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৮৯৬ থেকে ১৮৯৮ সালের মধ্যে আখাউড়া-বদরপুর সেকশন চালুর মাধ্যমে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনের যাত্রা শুরু হয়। ১৯১২ সালের ১৬ এপ্রিল কুলাউড়া থেকে কুশিয়ারী ঘাট পর্যন্ত ব্রাঞ্চলাইন চালুর মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ জংশনের মর্যাদা লাভ করে। পরবর্তীতে ১৯১২ থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে কুলাউড়া-সিলেট লাইন চালু হয়। একসময় এই জংশনটি ভারতের মহীশাসন, করিমগঞ্জ ও আসামের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগের মাধ্যম ছিল। ঐতিহাসিক ‘লাতুর ট্রেন’ কুলাউড়া থেকে শাহবাজপুর হয়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচল করত। সেই সময়ে এই জংশন দিয়ে চা, পাট ও কৃষিজাত পণ্য সরবরাহ হতো এবং ব্রিটিশ চা বাগান মালিক, ম্যানেজার ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যাতায়াত করতেন। তখন স্টেশনে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর রিফ্রেশমেন্ট রুম, পানশালা ও হোটেলগুলো যাত্রীদের পদভারে মুখর থাকতো। দেশ স্বাধীনতার পর ভারতের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয় এবং ২০০৫ সালে শাহবাজপুর স্টেশনের সাথেও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এই স্থাপনাগুলো ধ্বংসের প্রান্তে পৌঁছেছে।
কুলাউড়া শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সম্পাদক প্রভাষক সিপার উদ্দিন আহমদ বলেন, কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন বৃহত্তর সিলেটের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। অবহেলা ও অনাদরে রেলের ইতিহাসের গুরুত্ব বহনকারী এসব প্রাচীন নিদর্শন হারিয়ে যেতে বসেছে। কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার রুমান আহমদ জানান, ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যশৈলীর এই নিদর্শন সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি। এর আগে প্রাচীন স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নিলেও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চাপের মুখে তা সম্ভব হয়নি। সিলেট সেকশনের সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ পারভেজ জানিয়েছেন, স্থাপনাগুলো বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হেরিটেজ রক্ষার বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল এগিয়ে আসলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এগুলো সংরক্ষণে উদ্যোগ নেবে।


























