বকেয়া বেতন ও ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে গৌরীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ
- আপডেট সময় : ০৪:০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং অন্যায়ভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে ডেল্টা স্পিনার্স লিমিটেডের কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এসব দাবিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের কলতাপাড়া এলাকায় মিলসংলগ্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ শ্রমিক।
শ্রমিকদের এই আকস্মিক অবরোধ কর্মসূচির কারণে মহাসড়কটিতে প্রায় আধা ঘণ্টা সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মুহূর্তের মধ্যে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরবর্তীতে খবর পেয়ে গৌরীপুর থানা-পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় আন্দোলনরত শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, গত প্রায় দুই মাস ধরে তাদের পূর্ণ বেতন দেওয়া হচ্ছে না। নিয়মিত আট ঘণ্টা ডিউটি করার পরও বিগত কয়েক মাস ধরে তাদের প্রাপ্য বেতন থেকে তিন-চার হাজার টাকা কেটে রাখা হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে কাজ করার পরও একজন শ্রমিকের বেতন মাত্র আট হাজার টাকা। এছাড়া শতভাগ বোনাস, অতিরিক্ত কাজের ন্যায্য মজুরি, নিয়মিত ছুটি এবং ইচ্ছামতো শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি জানান তারা। তারা আরও অভিযোগ করেন, আট ঘণ্টা ডিউটি করলেও তাদের খাবারের জন্য মাত্র ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয় এবং ছুটি চাইলে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও গালাগাল করে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মিজানুর রহমান নামের এক সাবেক শ্রমিক অভিযোগ করেন, গত বছরের নভেম্বরে এই মিলে কাজ করার সময় মেশিনে তার একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই গত মার্চ মাসে মাত্র ২৩ হাজার ৫৬০ টাকা দিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। আঙুল হারানোর জন্য আলাদা কোনো ক্ষতিপূরণও তাকে দেওয়া হয়নি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কারখানার মহাব্যবস্থাপক আবু আহাম্মদ শরীফ জানান, মূলত গ্যাস সংকটের কারণে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা ও তাদের সম্মতি নিয়েই ৬০ শতাংশ বেতনে কারখানা সচল রাখা হয়েছিল। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে তাদের পূর্ণ বেতন দেওয়া হবে। তবে শ্রমিকদের গালাগাল করা কিংবা খাবারের জন্য পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। চাকরিচ্যুত শ্রমিক মিজানের বিষয়ে তিনি বলেন, অফিসের নথিপত্র না দেখে এ ব্যাপারে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে কারখানাটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, বেতন কমানো ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে শ্রমিকেরা মহাসড়কে নেমেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের বুঝিয়ে দ্রুত রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে শ্রমিকদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কারখানার ভেতরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয়।



























