টিসিবির সেবায় ডিজিটাল রূপান্তর, ভর্তুকি সাশ্রয়ের লক্ষ্য বাণিজ্যমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৬:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সেবা কার্যক্রমকে অধিকতর সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে সংস্থাটির ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন উদ্বোধন করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর টিসিবি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রযুক্তি হতে হবে মানুষের কল্যাণে, যাতে সেবা হয় সহজ, স্বচ্ছ ও মর্যাদাপূর্ণ।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন পর্যায় থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত দামের ব্যবধান এবং সাময়িক সরবরাহ ঘাটতি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে। এই পরিস্থিতিতে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য পৌঁছে দিতে টিসিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডিজিটাল রূপান্তরের সুফল সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, এর ফলে চলতি অর্থবছরে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকার ভর্তুকি সাশ্রয় হবে। আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে প্রযুক্তির সহায়তায় সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভর্তুকির অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, টিসিবির সেবাকে আধুনিক করতে ব্যাপক ডিজিটাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারীকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে একটি যাচাইকৃত ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭৯ লাখ উপকারভোগী টিসিবির সেবার আওতায় রয়েছেন, যা ভবিষ্যতে ১ কোটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে নতুন 'উপকারী' মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে উপকারভোগীরা কার্ডের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে সেবা নিতে পারবেন। এনক্রিপ্টেড কিউআর কোডের মাধ্যমে পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাই করা হবে, ফলে কার্ড হারিয়ে বা নষ্ট হলেও কেউ পণ্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবেন না। এছাড়া পণ্য বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক যাচাই, অনলাইন পেমেন্ট এবং তাৎক্ষণিক বিক্রয় রশিদের জন্য 'অল-ইন-ওয়ান পিওএস' মেশিন ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিক্রয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার কাজ অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে।


























