ঢাকা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এফবিআইয়ের হাজারো কর্মকর্তার সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের তেলুগু তারকা নানির ক্যারিয়ার, সম্পদ ও আসন্ন সিনেমার গল্প জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সৌন্দর্যের ভেতর ইতিহাসের শরীর: হেগেল ও মার্কসের নন্দনতত্ত্বের তুলনামূলক পাঠ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে: এস এম জিলানী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বনশ্রীতে কুকুরকে খাওয়াতে গিয়ে তরুণীকে মারধর, থানায় অভিযোগ ঈশ্বরদীতে ক্রেতা সেজে দুই ভরি স্বর্ণের মালা নিয়ে চম্পট গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত

শিল্পে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বাড়ল, তবে তিতাস এলাকায় এখনো ঘাটতি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৩৩:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রায় দুই মাস পর দেশে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গত তিন দিন ধরে শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে, যার দুই-তৃতীয়াংশ যাচ্ছে শিল্পে এবং এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে। তবে দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণ সংস্থা তিতাসের আওতাধীন এলাকায় এখনো চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়ে গেছে, যার ফলে কিছু শিল্পাঞ্চলে ও আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তি পুরোপুরি কাটেনি।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও দীর্ঘদিন ধরে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ২৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে, যার মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১৬১ কোটি এবং এলএনজি থেকে ৯৯ কোটি ঘনফুট পাওয়া গেছে। এর আগে গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ফলে সরবরাহ বন্ধ হয়ে দৈনিক সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমেছিল। ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পুনরায় চালুর পর সরবরাহ বাড়িয়ে ২৩২ কোটি ঘনফুট করা হয় এবং গত মঙ্গলবার এলএনজি থেকে ১০১ কোটি ঘনফুটসহ মোট সরবরাহ ২৬৩ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়।

সোমবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার থেকে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে তার আগের রাত থেকেই সরবরাহ প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট বাড়ানো হয়। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাড়তি গ্যাসের সিংহভাগই দেওয়া হচ্ছে শিল্প খাতে। একই সঙ্গে বাগেরহাটের রামপাল ও পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকায় চলমান লোডশেডিং কমাতে বিদ্যুৎ খাতেও গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করছে।

তবে ব্যবসায়ী ও বিতরণ সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বাড়তি গ্যাসের পুরো অংশ শিল্পে পৌঁছায়নি। এ নিয়ে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের চার সংগঠন—বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ ও বিটিটিএলএমইএ গত বুধবার গ্যাস সঞ্চালন কোম্পানি জিটিসিএলকে একটি যৌথ চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, তিতাস গ্যাসকে তাদের শিল্প চাহিদার তুলনায় ৩০ শতাংশ কম গ্যাস দেওয়া হচ্ছে, অথচ অন্য বিতরণ সংস্থাগুলো প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়তি সরবরাহ পাচ্ছে। তারা দ্রুত তিতাস এলাকায় সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে গ্যাস সরবরাহকারী তিতাস গ্যাস গতকাল ১৩৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেয়েছে, যেখানে ২১ জুলাইয়ের আগে তারা পেত ১৫০ কোটি ঘনফুট। পূর্বে তিতাস বিদ্যুৎ খাতে ৩০ কোটি, সার কারখানায় ৭ কোটি এবং শিল্পসহ অন্যান্য খাতে ১১৩ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করত। গতকাল তারা বিদ্যুতে ২২ কোটি, সারে ৭ কোটি এবং শিল্প ও অন্যান্য খাতে ১০৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করতে পেরেছে। ফলে শিল্প, আবাসিক ও সিএনজি খাতে আগের মতো সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় রান্নার ভোগান্তি রয়েই গেছে।

বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ময়মনসিংহের ভালুকায় গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরেছে। নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ এলাকায় চাপ বেড়েছে; যেমন ফতুল্লার কায়েমপুরের ফকির নিটওয়্যার লিমিটেডে ৫-৬ পিএসআই চাপ থাকায় ২৪ ঘণ্টা উৎপাদন চলছে এবং ফেয়ার অ্যাপারেলস লিমিটেডের ডাইং কারখানার মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুম জানান, চাপ বাড়ায় তারা টানা উৎপাদন করতে পারছেন। অন্যদিকে সাভার, আশুলিয়া এবং গাজীপুরের চন্দ্রা, সফিপুর ও কোনাবাড়ীতে গ্যাসের চাপ আশানুরূপ বাড়েনি। আশুলিয়া ফাউন্টেন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক আশিকুল ইসলাম জানান, দুই মাস ১ থেকে দেড় পিএসআই চাপ থাকার পর বুধবার সোয়া ৫ এবং বৃহস্পতিবার ৭ পিএসআই পাওয়া গেছে, যা স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ৭-৮ পিএসআইয়ের কাছাকাছি। তবে সাভারের কলমা এলাকার উইন্টার ড্রেস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় ৫ পিএসআই চাপ না পাওয়ায় তাদের বয়লার বন্ধ রাখতে হয়েছে। তিতাস গ্যাসের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (গাজীপুর) সাখাওয়াত হোসেন অবশ্য আশা প্রকাশ করেছেন যে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সাভারের সমস্যা পুরোপুরি কেটে যাবে।

দেশের কাপড়ের চাহিদার ৭০ শতাংশ জোগান দেওয়া নরসিংদীতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। নরসিংদী চেম্বারের সভাপতি রাশেদুল হাসান জানান, গ্যাসের অভাবে এখন কোনো কারখানা বন্ধ নেই। তবে মাধবদীর এমএমকে ডাইংয়ের স্বত্বাধিকারী মোমেন মোল্লা জানান, গ্যাসের সংকট কাটলেও বিদ্যুতের সমস্যা রয়ে গেছে। ঘোড়াদিয়ার শিল্পী ডাইংয়ের কর্মকর্তা অমিত সাহা জানান, দুপুরে তারা দেড় পিএসআই চাপ পেয়েছেন, যা বয়লার চালাতে প্রয়োজনীয় আড়াই পিএসআইয়ের চেয়ে কম। গাজীপুরের প্রায় সাড়ে তিন হাজার কারখানায় গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ায় উৎপাদন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান টাওয়েল টেক্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার ওমর ফারুক। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, অধিকাংশ শিল্পাঞ্চলে গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও ১২ থেকে ১৫ পিএসআই চাপও পাওয়া যাচ্ছে, যদিও কিছু জায়গায় চাপ এখনো ওঠানামা করছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও এটি নজরদারিতে রয়েছে। তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী শিল্প ও বিদ্যুতে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে এবং কয়লাভিত্তিক পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়লে শিল্প খাতে গ্যাসের সরবরাহ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

শিল্পে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বাড়ল, তবে তিতাস এলাকায় এখনো ঘাটতি

আপডেট সময় : ০১:৩৩:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রায় দুই মাস পর দেশে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গত তিন দিন ধরে শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে, যার দুই-তৃতীয়াংশ যাচ্ছে শিল্পে এবং এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে। তবে দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণ সংস্থা তিতাসের আওতাধীন এলাকায় এখনো চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়ে গেছে, যার ফলে কিছু শিল্পাঞ্চলে ও আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তি পুরোপুরি কাটেনি।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও দীর্ঘদিন ধরে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ২৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে, যার মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১৬১ কোটি এবং এলএনজি থেকে ৯৯ কোটি ঘনফুট পাওয়া গেছে। এর আগে গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ফলে সরবরাহ বন্ধ হয়ে দৈনিক সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমেছিল। ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পুনরায় চালুর পর সরবরাহ বাড়িয়ে ২৩২ কোটি ঘনফুট করা হয় এবং গত মঙ্গলবার এলএনজি থেকে ১০১ কোটি ঘনফুটসহ মোট সরবরাহ ২৬৩ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়।

সোমবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার থেকে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে তার আগের রাত থেকেই সরবরাহ প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট বাড়ানো হয়। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাড়তি গ্যাসের সিংহভাগই দেওয়া হচ্ছে শিল্প খাতে। একই সঙ্গে বাগেরহাটের রামপাল ও পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকায় চলমান লোডশেডিং কমাতে বিদ্যুৎ খাতেও গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করছে।

তবে ব্যবসায়ী ও বিতরণ সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বাড়তি গ্যাসের পুরো অংশ শিল্পে পৌঁছায়নি। এ নিয়ে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের চার সংগঠন—বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ ও বিটিটিএলএমইএ গত বুধবার গ্যাস সঞ্চালন কোম্পানি জিটিসিএলকে একটি যৌথ চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, তিতাস গ্যাসকে তাদের শিল্প চাহিদার তুলনায় ৩০ শতাংশ কম গ্যাস দেওয়া হচ্ছে, অথচ অন্য বিতরণ সংস্থাগুলো প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়তি সরবরাহ পাচ্ছে। তারা দ্রুত তিতাস এলাকায় সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে গ্যাস সরবরাহকারী তিতাস গ্যাস গতকাল ১৩৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেয়েছে, যেখানে ২১ জুলাইয়ের আগে তারা পেত ১৫০ কোটি ঘনফুট। পূর্বে তিতাস বিদ্যুৎ খাতে ৩০ কোটি, সার কারখানায় ৭ কোটি এবং শিল্পসহ অন্যান্য খাতে ১১৩ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করত। গতকাল তারা বিদ্যুতে ২২ কোটি, সারে ৭ কোটি এবং শিল্প ও অন্যান্য খাতে ১০৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করতে পেরেছে। ফলে শিল্প, আবাসিক ও সিএনজি খাতে আগের মতো সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় রান্নার ভোগান্তি রয়েই গেছে।

বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ময়মনসিংহের ভালুকায় গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরেছে। নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ এলাকায় চাপ বেড়েছে; যেমন ফতুল্লার কায়েমপুরের ফকির নিটওয়্যার লিমিটেডে ৫-৬ পিএসআই চাপ থাকায় ২৪ ঘণ্টা উৎপাদন চলছে এবং ফেয়ার অ্যাপারেলস লিমিটেডের ডাইং কারখানার মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুম জানান, চাপ বাড়ায় তারা টানা উৎপাদন করতে পারছেন। অন্যদিকে সাভার, আশুলিয়া এবং গাজীপুরের চন্দ্রা, সফিপুর ও কোনাবাড়ীতে গ্যাসের চাপ আশানুরূপ বাড়েনি। আশুলিয়া ফাউন্টেন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক আশিকুল ইসলাম জানান, দুই মাস ১ থেকে দেড় পিএসআই চাপ থাকার পর বুধবার সোয়া ৫ এবং বৃহস্পতিবার ৭ পিএসআই পাওয়া গেছে, যা স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ৭-৮ পিএসআইয়ের কাছাকাছি। তবে সাভারের কলমা এলাকার উইন্টার ড্রেস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় ৫ পিএসআই চাপ না পাওয়ায় তাদের বয়লার বন্ধ রাখতে হয়েছে। তিতাস গ্যাসের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (গাজীপুর) সাখাওয়াত হোসেন অবশ্য আশা প্রকাশ করেছেন যে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সাভারের সমস্যা পুরোপুরি কেটে যাবে।

দেশের কাপড়ের চাহিদার ৭০ শতাংশ জোগান দেওয়া নরসিংদীতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। নরসিংদী চেম্বারের সভাপতি রাশেদুল হাসান জানান, গ্যাসের অভাবে এখন কোনো কারখানা বন্ধ নেই। তবে মাধবদীর এমএমকে ডাইংয়ের স্বত্বাধিকারী মোমেন মোল্লা জানান, গ্যাসের সংকট কাটলেও বিদ্যুতের সমস্যা রয়ে গেছে। ঘোড়াদিয়ার শিল্পী ডাইংয়ের কর্মকর্তা অমিত সাহা জানান, দুপুরে তারা দেড় পিএসআই চাপ পেয়েছেন, যা বয়লার চালাতে প্রয়োজনীয় আড়াই পিএসআইয়ের চেয়ে কম। গাজীপুরের প্রায় সাড়ে তিন হাজার কারখানায় গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ায় উৎপাদন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান টাওয়েল টেক্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার ওমর ফারুক। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, অধিকাংশ শিল্পাঞ্চলে গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও ১২ থেকে ১৫ পিএসআই চাপও পাওয়া যাচ্ছে, যদিও কিছু জায়গায় চাপ এখনো ওঠানামা করছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও এটি নজরদারিতে রয়েছে। তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী শিল্প ও বিদ্যুতে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে এবং কয়লাভিত্তিক পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়লে শিল্প খাতে গ্যাসের সরবরাহ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo