বাংলাদেশিদের ভিয়েতনাম ভিসা সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
- আপডেট সময় : ০৬:১১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

বঙ্গভবনে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে আসা ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত গুয়েন ম্যানহ কুঅংয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার তাগিদ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত এই বিদায়ী সাক্ষাতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, কর্মী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করা প্রয়োজন। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে এবং উন্নয়নের সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে অংশীদারিত্বের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকালে ভিয়েতনামের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত গুয়েন ম্যানহ কুঅং দায়িত্ব গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তাকে সে দেশে সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন। রাষ্ট্রপতি এই আমন্ত্রণের জন্য ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতির প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু করা, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন এবং উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে রাষ্ট্রপতি ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে নিজের ভিয়েতনাম সফরের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও দ্বিপাক্ষিক মৈত্রী আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন。
বাণিজ্যিক সহযোগিতার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যকার বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করতে হলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশে উৎপাদিত বিশ্বমানের ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, বাইসাইকেল এবং পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানিযোগ্য সামগ্রী আরও বেশি পরিমাণে আমদানি করতে ভিয়েতনামের প্রতি আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি গুয়েন ম্যানহ কুঅংয়ের সফল কর্মকাল এবং বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের সম্পর্ক উন্নয়নে তার অনবদ্য অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরও রাষ্ট্রদূত দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে তার ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন। পরিশেষে রাষ্ট্রপতি বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করার পাশাপাশি ভিয়েতনামের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।


























