স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জবাবদিহির নতুন সমীকরণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার
- আপডেট সময় : ১২:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

তৃণমূলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। সরকার মনে করছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতৃত্ব বাছাইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমবে এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়বে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির শুরু থেকেই তৃণমূল নেতাদের মধ্যে এক ধরনের দায়বোধ তৈরি হয়েছে। তারা নিজ উদ্যোগে ভোটারদের খোঁজখবর নেওয়া, রাস্তাঘাট মেরামত এবং এলাকার সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখছেন। ফলে ভোটারদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি সরাসরি যোগাযোগ ও দায়বদ্ধতার সম্পর্ক গড়ে উঠছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকছে না। এর ফলে ভোটাররা প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। যদিও দলীয় প্রতীক থাকবে না, তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি-সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকতে পারেন। সরকার নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন আয়োজনে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে: প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ ২৭ মে।
দেশে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রতিনিধিরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন, তবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন। স্থানীয় সরকার আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী, এই নির্বাচন পরিচালনার পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।



























