রাজৈরে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, ঠিকাদারকে এলজিইডির কারণ দর্শানোর নোটিস
- আপডেট সময় : ০৫:১৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪: ৪১। মাদারীপুরের রাজৈরে গ্রামীণ সংযোগ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলমান সড়ক নির্মাণকাজে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্সকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চুক্তির শর্ত ও কারিগরি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, কাজে ধীরগতি, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করা, নিম্নমানের বড় আকারের খোয়া ব্যবহার এবং সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাজের অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোয় রাজৈর উপজেলা প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে গত রোববার দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোয়া ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং কিছু অংশের কাজ এখনো অসমাপ্ত। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, কাজের ধীরগতির কারণে বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। রাজৈর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। বিশেষ করে রাস্তার স্তর নির্মাণে ব্যবহৃত খোয়ার মান ও আকার নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। গত ১৫ জুলাই মাদারীপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে মজুত করা খোয়া বাতিল করে নতুন উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২৯ জুলাই দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন পুনরায় একই ধরনের নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের চেষ্টা দেখতে পান, যার প্রেক্ষিতে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওই দিনই নির্বাহী প্রকৌশলী হায়দার আলি খান প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ওহাব মাতুব্বরের সঙ্গে উপসহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের বাকবিতণ্ডা হয়। এলজিইডির চিঠিতে এই ঘটনাকে অসৌজন্যমূলক ও হুমকিমূলক আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে ৫ আগস্ট দেওয়া লিখিত জবাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, বিষয়টি পরবর্তীতে নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।
কারণ দর্শানোর নোটিসে সাত কার্যদিবসের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে চুক্তি বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্তসহ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। নতুন যোগ দেওয়া রাজৈর উপজেলা প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান জানান, তিনি ৬ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নিয়েছেন এবং বিষয়টি পরে জেনেছেন। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিডিউল অনুযায়ী কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার উজ্জ্বল দাবি করেছেন যে বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে, যদিও নির্বাহী প্রকৌশলী হায়দার আলি খান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


























