বাজিতপুরে ইউপি নির্বাচন ঘিরে বিএনপিতে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল
- আপডেট সময় : ০৫:৫৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ০৯। নির্বাচন কমিশন চলতি বছরের নভেম্বর মাস থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করার পর কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের দৃশ্যমান সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটা ঝিমিয়ে পড়ায় অনেক বিএনপি নেতাকর্মী এই সুযোগকে রাজনৈতিক উত্থানের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। ফলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এখন ব্যানার-পোস্টার লাগানো, গণসংযোগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে সরব উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে মাঠ দখলের চেষ্টা করছেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে জয় পাওয়ার প্রত্যাশা বেড়েছে, যা একই সঙ্গে স্থানীয় বিএনপিতে কোন্দলকে উসকে দিচ্ছে। আগে যেখানে কোনো কোনো ইউনিয়নে একক প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হতো, সেখানে এখন একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর উপস্থিতিতে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আগেই প্রার্থীদের মধ্যে এই ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণার পর দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি, পারিবারিক প্রভাব, সামাজিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা ভোটারদের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। অতীতে হুমাইপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাবের কারণে ভোটের হিসাব বদলে যাওয়ার নজির রয়েছে।
বাজিতপুর-নিকলী আসনে গত জাতীয় নির্বাচনের সময় বিএনপির দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিভক্তির কারণে বেশ কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা এবার স্থানীয় নেতৃত্বের জন্য একটি সতর্কসংকেত হিসেবে কাজ করছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের ইউপি নির্বাচন বিএনপির জন্য শুধু প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই নয়, বরং নিজেদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ধরে রাখার এক বড় পরীক্ষা। এছাড়া, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা কম থাকলেও তাদের সাবেক জনপ্রতিনিধি ও ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক পুরোপুরি অকার্যকর নয়, তাই বিএনপির প্রার্থীদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসও ঝুঁকির কারণ হতে পারে।



























