মঠবাড়িয়ায় ১২ কোটির সড়ক সংস্কারকাজ বন্ধ, জনদুর্ভোগ চরমে
- আপডেট সময় : ০৪:১৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ২৫। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মিরুখালী সড়কের সংস্কারকাজ দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। প্রায় ১২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির সংস্কারকাজ ২০২৩ সালের জুনে শুরু হয়েছিল। প্রকল্পটির মোট ব্যয় সড়ক ও সেতুসহ তিনটি প্যাকেজে প্রায় ১৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পরও তা সম্পন্ন হয়নি।
বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্তে কাদা সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি দিয়ে ভারী ট্রাকে করে ইট, গাছসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করা হয়, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। সংস্কারকাজ শুরুর পর এলাকাবাসী সড়কটি ভালো হওয়ার আশা করলেও কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের সেই আশা পূরণ হয়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভান্ডারিয়ার ইফতি টিসিএল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এই প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। পিরোজপুর এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী জিয়ারুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঠিকাদার প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার বিল দাখিল করতে পারেননি। এ ছাড়া উপজেলা ও পৌরসভা থেকে দুটি স্কিমের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
প্রকৌশলী আরও জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গর্তগুলো সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা বকেয়া বিলের কথা উল্লেখ করে কাজ শুরু করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, তারা যে পরিমাণ কাজ করেছেন তার পাওনা বিল পেলেই কাজ পুনরায় শুরু করবেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন নতুন করে দরপত্রের মাধ্যমে কাজ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন।




























