ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, এসিসহ ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



চট্টগ্রাম নগরে এক ব্যবসায়ী ও তাঁর বন্ধুকে তুলে নিয়ে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ও দুই সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার এই আদেশ দেন।

প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন সিএমপির এলআইসি শাখার এসি শরীফুল আলম চৌধুরী, এএসআই বশির উদ্দিন এবং রেশন শাখার এএসআই মো. সুফিয়ান। এদের মধ্যে এসি শরীফুলকে সিএমপি সদর দপ্তরে এবং দুই এএসআইকে দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে সিএমপির উপকমিশনার (পিএমও) মো. বদরুজ্জামানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সিএমপি কমিশনার নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর নগরের হালিশহর থানার কে-ব্লক এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল ও তাঁর বন্ধু মো. মনসুরকে। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, শাকিল অনলাইন জুয়ার এজেন্ট এবং তাঁর মুঠোফোনে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বাইন্যান্স ডলার রয়েছে। এরপর তাঁদের সিএমপি কার্যালয়ের নিচতলায় এলআইসি শাখায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এসি শরীফুল তাঁর কক্ষে প্রথমে তাঁদের কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে দর-কষাকষির পর শাকিলের মুঠোফোনে থাকা সাড়ে ১২ হাজার বাইন্যান্স ডলার ও নগদ ১০ লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ব্যবসায়ী শাকিলের অভিযোগ অনুযায়ী, শুরুতেই তাঁর বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে তিন দফায় সাড়ে ১০ হাজার ডলার অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। পরে সিটি ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা বাইন্যান্সের মাধ্যমে ডলারে রূপান্তর করে নেওয়া হয়। এছাড়া দামপাড়া পুলিশ লাইনের পাশে ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথে নিয়ে তাঁকে দিয়ে আরও টাকা তোলানো হয়। পাশাপাশি আর্থিক মুঠোফোন সেবাদাতা অ্যাপের মাধ্যমেও নেওয়া হয় ৮০ হাজার টাকা। শাকিল জানান, পরদিন আরও ৫ লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে তাঁর গাড়ি হস্তান্তর করা হলেও তাঁর ১৪টি মুঠোফোন রেখে দেন এসি শরীফুল।

আখতারুজ্জামান শাকিল জানান, খাতুনগঞ্জে তাঁর প্লাস্টিক দানার ব্যবসা ও একটি খামার রয়েছে। তিনি নিয়মিত মুঠোফোনে গেম খেলেন। সেই গেম খেলাকে জুয়া হিসেবে উল্লেখ করে ভয়ভীতি দেখানো এবং মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় তিনি টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। মুঠোফোনে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও থাকায় তিনি আরও বেশি আতঙ্কিত ছিলেন। পরবর্তীতে সেই ফোনগুলো ফেরত পাওয়ার জন্য একটি আইফোন দাবি করা হয় এবং তা না দিলে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সিএমপির এলআইসি শাখাটি অত্যন্ত গোপনীয়। অপরাধী শনাক্ত করা ও অপরাধ প্রতিরোধে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা এই শাখার কাজ। সিএমপি কার্যালয়ের নিচতলায় অবস্থিত শাখাটিতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির দরজা থাকায় অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া প্রবেশের সুযোগ নেই। এমনকি এই শাখায় কর্মরত কর্মকর্তাদের নিয়মিত কোনো অভিযানে যাওয়ারও সুযোগ নেই।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, এসিসহ ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ০৩:০৫:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরে এক ব্যবসায়ী ও তাঁর বন্ধুকে তুলে নিয়ে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ও দুই সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার এই আদেশ দেন।

প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন সিএমপির এলআইসি শাখার এসি শরীফুল আলম চৌধুরী, এএসআই বশির উদ্দিন এবং রেশন শাখার এএসআই মো. সুফিয়ান। এদের মধ্যে এসি শরীফুলকে সিএমপি সদর দপ্তরে এবং দুই এএসআইকে দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে সিএমপির উপকমিশনার (পিএমও) মো. বদরুজ্জামানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সিএমপি কমিশনার নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর নগরের হালিশহর থানার কে-ব্লক এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল ও তাঁর বন্ধু মো. মনসুরকে। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, শাকিল অনলাইন জুয়ার এজেন্ট এবং তাঁর মুঠোফোনে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বাইন্যান্স ডলার রয়েছে। এরপর তাঁদের সিএমপি কার্যালয়ের নিচতলায় এলআইসি শাখায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এসি শরীফুল তাঁর কক্ষে প্রথমে তাঁদের কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে দর-কষাকষির পর শাকিলের মুঠোফোনে থাকা সাড়ে ১২ হাজার বাইন্যান্স ডলার ও নগদ ১০ লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ব্যবসায়ী শাকিলের অভিযোগ অনুযায়ী, শুরুতেই তাঁর বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে তিন দফায় সাড়ে ১০ হাজার ডলার অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। পরে সিটি ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা বাইন্যান্সের মাধ্যমে ডলারে রূপান্তর করে নেওয়া হয়। এছাড়া দামপাড়া পুলিশ লাইনের পাশে ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথে নিয়ে তাঁকে দিয়ে আরও টাকা তোলানো হয়। পাশাপাশি আর্থিক মুঠোফোন সেবাদাতা অ্যাপের মাধ্যমেও নেওয়া হয় ৮০ হাজার টাকা। শাকিল জানান, পরদিন আরও ৫ লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে তাঁর গাড়ি হস্তান্তর করা হলেও তাঁর ১৪টি মুঠোফোন রেখে দেন এসি শরীফুল।

আখতারুজ্জামান শাকিল জানান, খাতুনগঞ্জে তাঁর প্লাস্টিক দানার ব্যবসা ও একটি খামার রয়েছে। তিনি নিয়মিত মুঠোফোনে গেম খেলেন। সেই গেম খেলাকে জুয়া হিসেবে উল্লেখ করে ভয়ভীতি দেখানো এবং মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় তিনি টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। মুঠোফোনে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও থাকায় তিনি আরও বেশি আতঙ্কিত ছিলেন। পরবর্তীতে সেই ফোনগুলো ফেরত পাওয়ার জন্য একটি আইফোন দাবি করা হয় এবং তা না দিলে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সিএমপির এলআইসি শাখাটি অত্যন্ত গোপনীয়। অপরাধী শনাক্ত করা ও অপরাধ প্রতিরোধে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা এই শাখার কাজ। সিএমপি কার্যালয়ের নিচতলায় অবস্থিত শাখাটিতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির দরজা থাকায় অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া প্রবেশের সুযোগ নেই। এমনকি এই শাখায় কর্মরত কর্মকর্তাদের নিয়মিত কোনো অভিযানে যাওয়ারও সুযোগ নেই।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo