আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি
- আপডেট সময় : ০২:৩৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশ-ভারত আন্তদেশীয় ট্রেন পরিষেবা চালুর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি রেলভবনে তিন দিন ধরে অনুষ্ঠিত ৩৮তম বাংলাদেশ-ভারত আন্তসরকার রেলওয়ে মিটিং (আইজিআরএম) শেষে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে ট্রেনগুলো বন্ধ করা হয়নি, বরং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে এগুলো বন্ধ রয়েছে। তাই পুনরায় ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পরই বাংলাদেশ বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখবে।
তিন দিনব্যাপী এই বৈঠকে ভারতীয় পক্ষ মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। এ বিষয়ে জিয়াউল হক বলেন, বাংলাদেশ এই প্রস্তাবটি গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রস্তাব আকারে এলে তা কারিগরি ও পরিচালনাগত সক্ষমতা যাচাইয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। পদ্মা সেতু দিয়ে আগে কোনো আন্তদেশীয় ট্রেন চলেনি বিধায় এর কারিগরি দিকগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এছাড়া পদ্মা সেতু রুট ব্যবহারের ফলে যাত্রাপথের দূরত্ব কমলে ভাড়ার পুনর্নির্ধারণের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়টি এবারের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও, বিষয়টির ওপর বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে। বৈঠকে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়টিও উঠে আসে। আগের বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারতীয় পক্ষকে ওই রুটে ট্রেন চালুর সম্ভাব্য যাত্রীচাহিদার তথ্য ও সহায়ক নথি দেওয়ার কথা থাকলেও, এবারের বৈঠক পর্যন্ত তারা নতুন কোনো তথ্য দেয়নি। বাংলাদেশ রেলওয়ে বিষয়টি তাদের পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
দুই দেশের রেলওয়ে সম্পর্কের বিষয়ে জিয়াউল হক বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের রেলওয়ের সম্পর্ক খারাপ ছিল না, এখনো ভালো আছে। এবারের বৈঠকে দুই পক্ষকেই ইতিবাচক মনে হয়েছে। গত বছর ভারতীয় পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হলেও এবার সে বিষয়ে কোনো কথা ওঠেনি। এবার পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে দুই দেশের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কীভাবে তা সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে পর্যায়ে যেসব বিষয় সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর যেসব বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা হবে।


























