ঢাকা ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড় থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্র রাতুল উদ্ধার জ্বালানি তেল থেকে ১০ বছরে সরকারের ঘরে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা দেশের ৭ অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১ নম্বর সতর্কসংকেত ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তির একমাত্র পথ দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান: জাতিসংঘ মহাসচিব ১৬ দিন পর পাবনা-রাজবাড়ী নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু কূটনৈতিক অবহেলায় জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ‘পিফোরএম’ সামিটে অনুপস্থিত বাংলাদেশ মঙ্গলে ৫০০০ দিন পার করে নতুন উপত্যকায় নাসার কিউরিওসিটি লালমনিরহাট কারাগারে ধারণক্ষমতার তিন গুণ বন্দি, তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকি ইরানের বিমান চলাচলের ওপর সর্বাত্মক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী ও হিন্দু পরিবারের মেয়েদের অধিকার

মহেশখালী চ্যানেলে বালু উত্তোলন ৪ মাস বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৪৬:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেলের ভারুয়াখালী ও বাঁকখালী মোহনা থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ওপর চার মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রুলের চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের ওই দুই এলাকায় ড্রেজিং ও বালু উত্তোলন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ.এফ.এম. সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক মো. জয়নাল আবেদীন এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, রুল শুনানি পেন্ডিং থাকা অবস্থায় চার মাস ড্রেজিং বন্ধ রাখতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়, মহেশখালী উপজেলার হামিদারদিয়া ও ঠাকুরতলা মৌজা থেকে বালু উত্তোলনের জন্য ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছিল কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। তবে অনুমোদনের শর্ত লঙ্ঘন করে প্রতিষ্ঠানটি মহেশখালী চ্যানেল, আদিনাথ পাহাড় সংলগ্ন মোহনা এবং বাঁকখালী খালের মোহনা থেকে বালু উত্তোলন শুরু করে। নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে ড্রেজিং করার কারণে জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করা হয়।

জানা গেছে, ১৩টি শর্ত সাপেক্ষে ওই প্রতিষ্ঠানকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অমান্য করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুমোদনে ১৮ ইঞ্চি কাটার ড্রেজার ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে ১২ ইঞ্চি সাকশন ড্রেজার ব্যবহার করে বালু তোলা হচ্ছে, যা সামুদ্রিক ও উপকূলীয় পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এছাড়া পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা না করেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি কোষাগারে রয়্যালটি জমা দেওয়া ছাড়া আর কোনো শর্তই মানছে না প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে গত ২ জুন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় ‘অনুমোদনের আগে ও পরে অনিয়ম’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয় গত ২১ জুলাই পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া বালু উত্তোলনের দায়ে ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’কে ৫০ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮০ টাকা জরিমানা করে। তবে জরিমানার পরও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

রিটকারী সাংবাদিক মো. জয়নাল আবেদীন জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের আদেশের কপি কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “মহেশখালী একটি দ্বীপ উপজেলা। নানা কারণে এলাকাটি এমনিতেই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে নিয়ম লঙ্ঘন করে মহেশখালীর মোহনার চরাঞ্চল থেকে বালু উত্তোলন করা হলে ভবিষ্যতে আদিনাথ পাহাড়সহ আশপাশের পরিবেশ ও দ্বীপের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। আমরা চাই সরকারি অনুমোদন ও ওয়ার্ক অর্ডারের শর্ত অনুযায়ী পরিবেশের ক্ষতি না করে কাজ করা হোক। কিন্তু কোনোভাবেই নিয়ম লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলন করা উচিত নয়।”

এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, হাইকোর্টের আদেশের কোনো অফিসিয়াল নির্দেশনা তিনি এখনো পাননি। নির্দেশনা হাতে পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জানান, তারা হাইকোর্টের আদেশের বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং আদেশটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১: ১৭

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

মহেশখালী চ্যানেলে বালু উত্তোলন ৪ মাস বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেট সময় : ০১:৪৬:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেলের ভারুয়াখালী ও বাঁকখালী মোহনা থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ওপর চার মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রুলের চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের ওই দুই এলাকায় ড্রেজিং ও বালু উত্তোলন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ.এফ.এম. সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক মো. জয়নাল আবেদীন এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, রুল শুনানি পেন্ডিং থাকা অবস্থায় চার মাস ড্রেজিং বন্ধ রাখতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়, মহেশখালী উপজেলার হামিদারদিয়া ও ঠাকুরতলা মৌজা থেকে বালু উত্তোলনের জন্য ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছিল কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। তবে অনুমোদনের শর্ত লঙ্ঘন করে প্রতিষ্ঠানটি মহেশখালী চ্যানেল, আদিনাথ পাহাড় সংলগ্ন মোহনা এবং বাঁকখালী খালের মোহনা থেকে বালু উত্তোলন শুরু করে। নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে ড্রেজিং করার কারণে জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করা হয়।

জানা গেছে, ১৩টি শর্ত সাপেক্ষে ওই প্রতিষ্ঠানকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অমান্য করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুমোদনে ১৮ ইঞ্চি কাটার ড্রেজার ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে ১২ ইঞ্চি সাকশন ড্রেজার ব্যবহার করে বালু তোলা হচ্ছে, যা সামুদ্রিক ও উপকূলীয় পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এছাড়া পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা না করেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি কোষাগারে রয়্যালটি জমা দেওয়া ছাড়া আর কোনো শর্তই মানছে না প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে গত ২ জুন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় ‘অনুমোদনের আগে ও পরে অনিয়ম’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয় গত ২১ জুলাই পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া বালু উত্তোলনের দায়ে ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’কে ৫০ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮০ টাকা জরিমানা করে। তবে জরিমানার পরও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

রিটকারী সাংবাদিক মো. জয়নাল আবেদীন জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের আদেশের কপি কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “মহেশখালী একটি দ্বীপ উপজেলা। নানা কারণে এলাকাটি এমনিতেই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে নিয়ম লঙ্ঘন করে মহেশখালীর মোহনার চরাঞ্চল থেকে বালু উত্তোলন করা হলে ভবিষ্যতে আদিনাথ পাহাড়সহ আশপাশের পরিবেশ ও দ্বীপের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। আমরা চাই সরকারি অনুমোদন ও ওয়ার্ক অর্ডারের শর্ত অনুযায়ী পরিবেশের ক্ষতি না করে কাজ করা হোক। কিন্তু কোনোভাবেই নিয়ম লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলন করা উচিত নয়।”

এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, হাইকোর্টের আদেশের কোনো অফিসিয়াল নির্দেশনা তিনি এখনো পাননি। নির্দেশনা হাতে পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জানান, তারা হাইকোর্টের আদেশের বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং আদেশটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১: ১৭

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh