পাকিস্তানে নিহত সীতাকুণ্ডের রমজান, দেশে ফেরার আকুতি ছিল শেষ কথা
- আপডেট সময় : ০৬:১৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া এলাকার বাসিন্দা রমজান আলী (৫২)। তিনি বেলুচিস্তানের পিশিন জেলার জিয়ারাত ক্রস এলাকায় কাস্টম হাউসে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের স্বজনেরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর মরদেহ কোয়েটার একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
রমজানের ছোট বোন মঞ্জুরা বেগম জানান, মৃত্যুর পাঁচ দিন আগে মুঠোফোনে ভাই তাঁকে বলেছিলেন, ‘বোন, এখানে কয়েক দিন ধরে ভয়ংকর গোলাগুলি হচ্ছে। থেমে থেমে গুলি চলে। আতঙ্কে আছি। থাকব না এখানে। দেশে চলে যাব।’ তিনি দেশে ফেরার প্রক্রিয়াও শুরু করেছিলেন। দেশে ফিরে ব্যবসা করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর, যার জন্য তিনি প্রায় চার লাখ টাকা জমিয়েছিলেন। বাড়ির লোকজন তাঁর জন্য একটি দোকানও ভাড়া করে রেখেছিলেন।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর তথ্য ও ডন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট রাতে পিশিন জেলার জিয়ারাত ক্রসে কাস্টম হাউসে সন্ত্রাসীরা সমন্বিত হামলা চালায়। এই হামলায় পাঁচজন নিরাপত্তাকর্মী ও একজন কাস্টমস কর্মকর্তাসহ মোট ছয়জন নিহত হন। পাল্টা অভিযানে ১০ হামলাকারীও নিহত হয়। পরিবারের দাবি, নিহত ছয়জনের মধ্যে রমজান আলী একজন।
চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রমজান ছিলেন তৃতীয়। ১৯৮৯ সালে ১৮ বছর বয়সে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই তিনি পাকিস্তানে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি বিয়ে করেননি এবং একাই থাকতেন। পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সাত-আট বছর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর প্রায় ছয় মাস আগে তিনি আবার যোগাযোগ শুরু করেন।
রমজানের দেশে ফেরার প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভগ্নিপতি কাইয়ুম চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএসবি) একজন উপপরিদর্শক তাঁদের ঠিকানা ও পরিবারের তথ্য যাচাই করেছিলেন। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার এসআই হুমায়ুন কবির জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে এসবি থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছিল এবং যাচাই করে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে, তবে পরবর্তী অবস্থা তাঁদের জানা নেই।
পাকিস্তানের বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, রমজান আলীর দেশে ফেরার আবেদন প্রক্রিয়াধীন ছিল। বর্তমানে তাঁর লাশ দেশে পাঠানোর জন্য পাকিস্তান সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানো হয়েছে। অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে, সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফকরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে কোনো সহযোগিতা চাওয়া হয়নি বা বিষয়টি তাঁদের জানানো হয়নি।


























