শামীম ওসমানের নির্দেশে চিকিৎসা পাননি, ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি আহত যোদ্ধার
- আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার আহমেদ। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ অন্যান্য আসামিরা। তিনি গেজেটভুক্ত ‘গ’ শ্রেণির আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে এই সাক্ষ্য দেন।
কাউসার আহমেদ জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে তিনি নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া মোড়ে আন্দোলনে যোগ দেন। সেদিন বেলা পৌনে দুইটার দিকে চাষাড়া মোড়ে শামীম ওসমানের বাড়ির সামনে ২০ থেকে ২৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান। আক্রমণকারীদের তালিকায় শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, শাহ নিজাম, ফাইজুল, নিয়াজুল, টিপু, দিপু ও সাইদ ছিলেন। তিনি দাবি করেন, তাদের হাতে থাকা দেশি-বিদেশি অস্ত্রের গুলিতে তার বাঁ পা জখম হয় এবং তিনি রাস্তায় পড়ে যান।
আহত হওয়ার পর তাকে কে বা কারা নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে শামীম ওসমানের নির্দেশ ছিল চিকিৎসা না দেওয়ার জন্য। ফলে তিনি সেদিন খানপুর হাসপাতালে কোনো চিকিৎসা পাননি। পরবর্তীতে তাকে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং ৮ আগস্ট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলি বের করা হয়। জবানবন্দিতে সাক্ষী উল্লেখ করেন যে, সেদিন অনেকেই আসামিদের গুলিতে আহত হয়েছিলেন এবং বন্দর এলাকার সুজন নামে একজন নিহত হয়েছিলেন।
কাউসার ওসমান পরিবারের এই সদস্যকে নারায়ণগঞ্জের ‘গডফাদার’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তার নেতৃত্বেই সন্ত্রাসীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু মানুষকে হতাহত করেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ১২ জন আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তিনি তাকে গুলি করে আহত করাসহ অন্যান্য আন্দোলনকারীদের হতাহত করার জন্য এই মামলার আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।


























