ঢাকা ০৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পেতে আলোচনা চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএমএলে ১২টি ভাষা শেখার সুযোগ ৩৬ বছর বয়সে না ফেরার দেশে জিম্বাবুয়ের আম্পায়ার সারাহ বিএনপিকেও শেখ হাসিনার ভূতে ধরেছে: মামুনুল হক মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স নিয়ে শঙ্কা নোয়াখালীতে খুঁটিতে বেঁধে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও ভাইরাল তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নন-কটন পণ্যের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ কারাবাস ও বিরতি কাটিয়ে অভিনয়ে ফিরলেন অভিনেতা জাহের আলভী পটিয়ায় দুই ইউনিয়নের রশি টানাটানিতে ৩০ পরিবারের চরম দুর্ভোগ আটঘরিয়ায় দেড় লাখ তালের বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

২৪ বছরের বিরতি পেরিয়ে ৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস পাস হাবিবুল্লাহর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৪৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দীর্ঘ ২৪ বছরের বিরতি ও জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবশেষে ৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস পাস করেছেন মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। গত ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ১৯৯৫-১৯৯৬ সেশনের ‘কে-৫৩’ ব্যাচের এই শিক্ষার্থী অবশেষে ‘কে-৭৮’ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করলেন।

হাবিবুল্লাহর এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। ২০০২ সালে তাঁর এমবিবিএস পাস করার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা পিছিয়ে যায় এবং অবশেষে ২০২৬ সালে তিনি এই ডিগ্রি অর্জন করেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পড়াশোনায় ফিরে আসার বিষয়ে হাবিবুল্লাহ জানান, একসময় তিনি পড়াশোনা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জুনিয়রদের সঙ্গে ক্লাস করতে গিয়ে মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা, পারিবারিক সংকট ও মানসিক চাপের কারণে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বন্ধু, সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় তিনি আবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হন। তাঁর সমসাময়িক বন্ধুদের অনেকেই এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যাপক হওয়ার পথে রয়েছেন।

হাবিবুল্লাহর বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক ছিলেন একজন চিকিৎসক ও সাবেক সিভিল সার্জন। তিনি ব্যক্তিগত চেম্বারে মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকা ফি নিয়ে রোগী দেখতেন। সাত সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর বড় পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না, যার প্রভাব হাবিবুল্লাহর জীবনেও পড়েছিল। ২০০০ সালে তাঁর বাবা এবং ২০১৬ সালে তাঁর মা মারা যান। এর আগে ২০০২ সালে কিডনি জটিলতায় হাবিবুল্লাহর স্ত্রীও মারা যান। প্রথমবার মেডিকেলে সুযোগ না পেলেও দ্বিতীয়বার ভালো ফল করে ১৯৯৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ক্লাস শুরু করেছিলেন হাবিবুল্লাহ। শুরুতে ভালো করলেও পরবর্তীতে এক শিক্ষকের সঙ্গে ঝামেলার কারণে তাঁর পড়াশোনা ব্যাহত হয়, যা নিয়ে তিনি বিস্তারিত বলতে চাননি।

২০২৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের তৎকালীন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলুর সঙ্গে দেখা করেন হাবিবুল্লাহ। তিনি আবার ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে দীর্ঘ বিরতির কারণে তাঁর জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ টাকা। তৎকালীন স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবদুল হানিফ, হাবিবুল্লাহ নিজে এবং তাঁর ‘কে-৫৩’ ব্যাচের বন্ধুরা মিলে এই অর্থ জোগাড় করেন। হাবিবুল্লাহ নিজে এক লাখ টাকা দেন এবং বাকি এক লাখ টাকা বন্ধু ও শিক্ষকেরা দেন। এরপর আবার ভর্তি হয়ে এক দফা বিরতি দিয়ে তিনি এমবিবিএস সম্পন্ন করেন।

হাবিবুল্লাহর এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেন, “২৪ বছর পর এমবিবিএস পাস! চেষ্টা থাকলে কি না হয়!” তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে হাবিবুল্লাহ তাঁর জন্য উপহার হিসেবে প্রয়াত বাবার ব্যবহৃত একটি স্টেথোস্কোপ ও একটি পবিত্র কোরআন শরিফ নিয়ে এসেছিলেন। অধ্যাপক হানিফ কোরআন শরিফটি নিজের কাছে রাখলেও স্টেথোস্কোপটি হাবিবুল্লাহকে ফেরত দেন, যাতে তিনি সেটি রোগীদের সেবায় ব্যবহার করতে পারেন।

বর্তমানে ইন্টার্নশিপ শুরুর অপেক্ষায় থাকা হাবিবুল্লাহ ভবিষ্যতে সাইকিয়াট্রি বা মনোরোগ বিদ্যায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে চান। মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার আগ্রহ থেকে তিনি এর আগে একটি মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক পত্রিকার সহকারী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে হাবিবুল্লাহ বলেন, তিনি জীবনে খুব বেশি কিছু চান না, শুধু পেটে-ভাতে মাস পার করতে পারলেই খুশি। তাঁর এই অর্জন সম্পর্কে অধ্যাপক আবদুল হানিফ বলেন, হাবিবুল্লাহর প্রবল ইচ্ছাশক্তি এবং অন্যদের সহযোগিতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মেডিকেল কলেজগুলোতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষকদের বিশেষ যত্ন ও কার্যকর মেন্টরশিপ ব্যবস্থার ওপর জোর দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

২৪ বছরের বিরতি পেরিয়ে ৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস পাস হাবিবুল্লাহর

আপডেট সময় : ০১:৪৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ ২৪ বছরের বিরতি ও জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবশেষে ৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস পাস করেছেন মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। গত ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ১৯৯৫-১৯৯৬ সেশনের ‘কে-৫৩’ ব্যাচের এই শিক্ষার্থী অবশেষে ‘কে-৭৮’ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করলেন।

হাবিবুল্লাহর এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। ২০০২ সালে তাঁর এমবিবিএস পাস করার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা পিছিয়ে যায় এবং অবশেষে ২০২৬ সালে তিনি এই ডিগ্রি অর্জন করেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পড়াশোনায় ফিরে আসার বিষয়ে হাবিবুল্লাহ জানান, একসময় তিনি পড়াশোনা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জুনিয়রদের সঙ্গে ক্লাস করতে গিয়ে মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা, পারিবারিক সংকট ও মানসিক চাপের কারণে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বন্ধু, সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় তিনি আবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হন। তাঁর সমসাময়িক বন্ধুদের অনেকেই এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যাপক হওয়ার পথে রয়েছেন।

হাবিবুল্লাহর বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক ছিলেন একজন চিকিৎসক ও সাবেক সিভিল সার্জন। তিনি ব্যক্তিগত চেম্বারে মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকা ফি নিয়ে রোগী দেখতেন। সাত সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর বড় পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না, যার প্রভাব হাবিবুল্লাহর জীবনেও পড়েছিল। ২০০০ সালে তাঁর বাবা এবং ২০১৬ সালে তাঁর মা মারা যান। এর আগে ২০০২ সালে কিডনি জটিলতায় হাবিবুল্লাহর স্ত্রীও মারা যান। প্রথমবার মেডিকেলে সুযোগ না পেলেও দ্বিতীয়বার ভালো ফল করে ১৯৯৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ক্লাস শুরু করেছিলেন হাবিবুল্লাহ। শুরুতে ভালো করলেও পরবর্তীতে এক শিক্ষকের সঙ্গে ঝামেলার কারণে তাঁর পড়াশোনা ব্যাহত হয়, যা নিয়ে তিনি বিস্তারিত বলতে চাননি।

২০২৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের তৎকালীন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলুর সঙ্গে দেখা করেন হাবিবুল্লাহ। তিনি আবার ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে দীর্ঘ বিরতির কারণে তাঁর জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ টাকা। তৎকালীন স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবদুল হানিফ, হাবিবুল্লাহ নিজে এবং তাঁর ‘কে-৫৩’ ব্যাচের বন্ধুরা মিলে এই অর্থ জোগাড় করেন। হাবিবুল্লাহ নিজে এক লাখ টাকা দেন এবং বাকি এক লাখ টাকা বন্ধু ও শিক্ষকেরা দেন। এরপর আবার ভর্তি হয়ে এক দফা বিরতি দিয়ে তিনি এমবিবিএস সম্পন্ন করেন।

হাবিবুল্লাহর এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেন, “২৪ বছর পর এমবিবিএস পাস! চেষ্টা থাকলে কি না হয়!” তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে হাবিবুল্লাহ তাঁর জন্য উপহার হিসেবে প্রয়াত বাবার ব্যবহৃত একটি স্টেথোস্কোপ ও একটি পবিত্র কোরআন শরিফ নিয়ে এসেছিলেন। অধ্যাপক হানিফ কোরআন শরিফটি নিজের কাছে রাখলেও স্টেথোস্কোপটি হাবিবুল্লাহকে ফেরত দেন, যাতে তিনি সেটি রোগীদের সেবায় ব্যবহার করতে পারেন।

বর্তমানে ইন্টার্নশিপ শুরুর অপেক্ষায় থাকা হাবিবুল্লাহ ভবিষ্যতে সাইকিয়াট্রি বা মনোরোগ বিদ্যায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে চান। মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার আগ্রহ থেকে তিনি এর আগে একটি মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক পত্রিকার সহকারী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে হাবিবুল্লাহ বলেন, তিনি জীবনে খুব বেশি কিছু চান না, শুধু পেটে-ভাতে মাস পার করতে পারলেই খুশি। তাঁর এই অর্জন সম্পর্কে অধ্যাপক আবদুল হানিফ বলেন, হাবিবুল্লাহর প্রবল ইচ্ছাশক্তি এবং অন্যদের সহযোগিতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মেডিকেল কলেজগুলোতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষকদের বিশেষ যত্ন ও কার্যকর মেন্টরশিপ ব্যবস্থার ওপর জোর দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo