আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজরদারিতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ার আহ্বান ফলকার টুর্কের
- আপডেট সময় : ১০:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি করার জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক। সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় তিনি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এই আহ্বান জানান।
ফলকার টুর্ক বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের ওপর নজরদারি চালাতে সক্ষম এমন একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। তিনি সংস্থাগুলোর কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর বারবার গুরুত্বারোপ করেছেন।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর জুলাই-আগস্টের বিক্ষোভে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে একটি তথ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির জন্য ৪৪টি সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ড তদারকিতে স্বাধীন নজরদারি ব্যবস্থা, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বেসামরিক জবাবদিহির ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনটিতে জাতিসংঘের বিভিন্ন ট্রিটি বডির সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছিল, যেখানে বলা হয় যে, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্ত করার ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের থাকা উচিত। একই সঙ্গে কমিশনকে পর্যাপ্ত সম্পদ প্রদান এবং প্যারিস নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগপ্রক্রিয়া চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রণীত গুমবিরোধী আইন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আইনবিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এই আইনগুলোতে প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা, তদন্তক্ষমতা এবং জবাবদিহির ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে এবং তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে পারছে না।


























