ঢাকা ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে একরাতে ৬২৪ জন আটক বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন এআই-এর যুগেও নিজের অবস্থানে অনড় ‘লিপস্টিক কিং’ লি জিয়াকি টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের শুনানি আজ যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিংকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা, আলোচনায় বাণিজ্যসহ নানা ইস্যু টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে পাকিস্তানের আবরার, পেছনে ফেললেন রশিদকে টানা সাত দিন কমল বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম মহানবী (সা.)-এর ইনসাফ: মানবজাতির জন্য অনুপম আদর্শ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সালাম জানাতে রোজ সড়কে দাঁড়ান আবদুস সালাম

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



চাকরি হারিয়েছেন মাসখানেক আগে। তবুও প্রতিদিন সকালে নিরাপত্তা প্রহরীর পুরোনো পোশাক পরে রাজধানীর রমনা এলাকার সড়কের পাশে এসে দাঁড়ান ষাটোর্ধ্ব আবদুস সালাম। হাতে থাকে এক তোড়া ধানের শীষ। উদ্দেশ্য একটাই—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখা এবং তাঁকে সালাম জানানো। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে গত প্রায় ছয় মাস ধরে এটিই তাঁর প্রাত্যহিক রুটিন। তাঁর ভাষায়, 'প্রধানমন্ত্রীরে সালাম দেই। উনি সালাম লন। কইলজাডায় শান্তি লাগে।'

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর পুরোনো রমনা থানার পাশে আবদুস সালামের সঙ্গে কথা হয়। পরনে ছিল তাঁর আগের চাকরির নিরাপত্তা প্রহরীর পোশাক, আর হাতের ব্যাগে ছিল ধানের শীষের ছড়া। তিনি জানালেন, একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথে নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করতেন তিনি। এই পোশাকটি সেই প্রতিষ্ঠানেরই দেওয়া ছিল। তবে মাসখানেক আগে বুথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর চাকরিটি চলে যায়।

পরিবার নিয়ে রাজধানীর মানিকনগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন আবদুস সালাম। তাঁর গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার আমিনপুরে। পরিবারে স্ত্রী ছাড়াও তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও ছেলেটি এখনো বেকার। তাই এই বয়সেও পরিবারের হাল ধরতে তাঁকে প্রতিদিন কাজের খোঁজে বের হতে হয়। একসময় তিনি ২৫ বছর ধরে দূরপাল্লার পরিবহনের চালক হিসেবে কাজ করেছেন। তবে কয়েক বছর আগে স্ট্রোক করার পর প্রায় তিন বছর বাড়িতেই বেকার অবস্থায় বিছানায় পড়ে ছিলেন। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর এই নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ পেয়েছিলেন, যা সম্প্রতি হারিয়েছেন।

চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে থাকলেও প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানানোর রোজকার নিয়মে কোনো পরিবর্তন আনেননি আবদুস সালাম। তিনি বলেন, 'কাম নাই। এ্যার পরেও প্রতিদিন পোশাক পরি। ব্যাগে ধানের শীষ লইয়া সকালে চইল্লা আসি। শুক্র-শনি বাদ দিয়া প্রতিদিনই আইসা পড়ি। রেগুলার এহানে দাঁড়াই। রেগুলার আমারে প্রধানমন্ত্রী একনজর তাকায়া দেখে।'

প্রধানমন্ত্রী প্রথম যেদিন তাঁর সালামের উত্তর দিয়েছিলেন, সেই স্মৃতির কথা উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, শপথ নেওয়ার পর প্রথম যেদিন প্রধানমন্ত্রী গুলশান থেকে সচিবালয়ে যাচ্ছিলেন, সেদিন তিনি দৌড়ে গিয়ে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাঁর সালাম গ্রহণ করেছিলেন, যা তাঁকে অনেক শান্তি দিয়েছিল। আজকেও তিনি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সঙ্গে থাকা রুমন স্যারকে সালাম জানিয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর দিকে তাকিয়ে সালাম গ্রহণ করেছেন বলে জানান আবদুস সালাম। তবে যেদিন প্রধানমন্ত্রী এই সড়ক দিয়ে যান না, সেদিন তাঁর মনে গভীর আফসোস রয়ে যায়।

রমনা এলাকার যে জায়গায় আবদুস সালাম নিয়মিত দাঁড়ান, সেখানকার এক চা-দোকানি জানান, এই লোক প্রতিদিন এখানে এসে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং গাড়ি এলে দৌড়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানান। আগে তিনি এখানেই কাজ করতেন, এখন কাজ না থাকলেও নিয়ম করে আসেন এবং সালাম জানিয়ে চলে যান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু আবদুস সালামই নন, প্রতিদিন অনেক মানুষই সড়কের পাশে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির অপেক্ষায় থাকেন এবং হাত নেড়ে বা চোখের ইশারায় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। গাড়ি না থামলেও এই ক্ষণিকের দেখাতেই গড়ে উঠেছে এক অদ্ভুত নিয়মিত যোগাযোগ।

আবদুস সালাম জানান, যখন তাঁর চাকরি ছিল, তখন খুব সকালে এসে বুথ খুলে পরিষ্কার করে অপেক্ষা করতেন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের। এরপর তাঁকে সালাম জানিয়ে সকালের নাশতা করতেন। চাকরি হারানোর পরও এই নিয়মে কোনো পরিবর্তন আসেনি তাঁর জীবনে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সালাম জানাতে রোজ সড়কে দাঁড়ান আবদুস সালাম

আপডেট সময় : ০৮:০৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাকরি হারিয়েছেন মাসখানেক আগে। তবুও প্রতিদিন সকালে নিরাপত্তা প্রহরীর পুরোনো পোশাক পরে রাজধানীর রমনা এলাকার সড়কের পাশে এসে দাঁড়ান ষাটোর্ধ্ব আবদুস সালাম। হাতে থাকে এক তোড়া ধানের শীষ। উদ্দেশ্য একটাই—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখা এবং তাঁকে সালাম জানানো। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে গত প্রায় ছয় মাস ধরে এটিই তাঁর প্রাত্যহিক রুটিন। তাঁর ভাষায়, 'প্রধানমন্ত্রীরে সালাম দেই। উনি সালাম লন। কইলজাডায় শান্তি লাগে।'

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর পুরোনো রমনা থানার পাশে আবদুস সালামের সঙ্গে কথা হয়। পরনে ছিল তাঁর আগের চাকরির নিরাপত্তা প্রহরীর পোশাক, আর হাতের ব্যাগে ছিল ধানের শীষের ছড়া। তিনি জানালেন, একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথে নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করতেন তিনি। এই পোশাকটি সেই প্রতিষ্ঠানেরই দেওয়া ছিল। তবে মাসখানেক আগে বুথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর চাকরিটি চলে যায়।

পরিবার নিয়ে রাজধানীর মানিকনগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন আবদুস সালাম। তাঁর গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার আমিনপুরে। পরিবারে স্ত্রী ছাড়াও তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও ছেলেটি এখনো বেকার। তাই এই বয়সেও পরিবারের হাল ধরতে তাঁকে প্রতিদিন কাজের খোঁজে বের হতে হয়। একসময় তিনি ২৫ বছর ধরে দূরপাল্লার পরিবহনের চালক হিসেবে কাজ করেছেন। তবে কয়েক বছর আগে স্ট্রোক করার পর প্রায় তিন বছর বাড়িতেই বেকার অবস্থায় বিছানায় পড়ে ছিলেন। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর এই নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ পেয়েছিলেন, যা সম্প্রতি হারিয়েছেন।

চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে থাকলেও প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানানোর রোজকার নিয়মে কোনো পরিবর্তন আনেননি আবদুস সালাম। তিনি বলেন, 'কাম নাই। এ্যার পরেও প্রতিদিন পোশাক পরি। ব্যাগে ধানের শীষ লইয়া সকালে চইল্লা আসি। শুক্র-শনি বাদ দিয়া প্রতিদিনই আইসা পড়ি। রেগুলার এহানে দাঁড়াই। রেগুলার আমারে প্রধানমন্ত্রী একনজর তাকায়া দেখে।'

প্রধানমন্ত্রী প্রথম যেদিন তাঁর সালামের উত্তর দিয়েছিলেন, সেই স্মৃতির কথা উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, শপথ নেওয়ার পর প্রথম যেদিন প্রধানমন্ত্রী গুলশান থেকে সচিবালয়ে যাচ্ছিলেন, সেদিন তিনি দৌড়ে গিয়ে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাঁর সালাম গ্রহণ করেছিলেন, যা তাঁকে অনেক শান্তি দিয়েছিল। আজকেও তিনি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সঙ্গে থাকা রুমন স্যারকে সালাম জানিয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর দিকে তাকিয়ে সালাম গ্রহণ করেছেন বলে জানান আবদুস সালাম। তবে যেদিন প্রধানমন্ত্রী এই সড়ক দিয়ে যান না, সেদিন তাঁর মনে গভীর আফসোস রয়ে যায়।

রমনা এলাকার যে জায়গায় আবদুস সালাম নিয়মিত দাঁড়ান, সেখানকার এক চা-দোকানি জানান, এই লোক প্রতিদিন এখানে এসে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং গাড়ি এলে দৌড়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানান। আগে তিনি এখানেই কাজ করতেন, এখন কাজ না থাকলেও নিয়ম করে আসেন এবং সালাম জানিয়ে চলে যান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু আবদুস সালামই নন, প্রতিদিন অনেক মানুষই সড়কের পাশে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির অপেক্ষায় থাকেন এবং হাত নেড়ে বা চোখের ইশারায় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। গাড়ি না থামলেও এই ক্ষণিকের দেখাতেই গড়ে উঠেছে এক অদ্ভুত নিয়মিত যোগাযোগ।

আবদুস সালাম জানান, যখন তাঁর চাকরি ছিল, তখন খুব সকালে এসে বুথ খুলে পরিষ্কার করে অপেক্ষা করতেন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের। এরপর তাঁকে সালাম জানিয়ে সকালের নাশতা করতেন। চাকরি হারানোর পরও এই নিয়মে কোনো পরিবর্তন আসেনি তাঁর জীবনে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo