ধানকাটার শ্রমিক সেজে বৃদ্ধাকে হত্যা, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩
- আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ধানকাটার শ্রমিক সেজে বাড়িতে ঢুকে ছমিরন খাতুন (৬০) নামের এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. মাসুম বিল্লাহ ওরফে রবিন (৩১), শরীফুল ইসলাম শান্ত (২৭) এবং আরাফাত হোসেন (১৪)। পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, মো. মাসুম বিল্লাহ ওরফে রবিন এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, তবে এ ঘটনায় জড়িত আরও একজন এখনো পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩ মে সকালে চান্দিনার অলিপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে ছমিরন খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের শয়নকক্ষের দরজা খোলা ছিল এবং কাঠের আলমারি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বাড়িতে থাকা ধানকাটার শ্রমিকরা উধাও হয়ে গেলে নিহতের ছেলে মো. বশির আহাম্মদ চান্দিনা থানায় একটি অজ্ঞাতনামা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১০ মে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই কুমিল্লার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আমিরুল ইসলাম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১২ থেকে ১৫ মে চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে শরীফুল ইসলাম শান্ত ও আরাফাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩ সেপ্টেম্বর মূল পরিকল্পনাকারী মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা পূর্বে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফিশারি ঘাটে তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে একসঙ্গে কাজ করতেন। পরে তারা ধানকাটার শ্রমিক সেজে কুমিল্লায় এসে ভুক্তভোগীর বাড়িতে অবস্থান নেন।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, ঘটনার দিন ধান কাটা ও ধান নষ্ট করা নিয়ে ছমিরন খাতুন ও তার স্বামীর সঙ্গে শ্রমিকদের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ওইদিন রাত ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে আসামিরা ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার পর তারা ঘর থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা এবং আনুমানিক ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যান। গত শনিবার সকালে কুমিল্লা নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় পিবিআই জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে।




























