শরীয়তপুরে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল মানসিক ভারসাম্যহীন রতন পোদ্দারের
- আপডেট সময় : ০৪:৫০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

মায়ের মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই এবার বাবাকেও হারাল দুই সন্তান। বুধবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুর জেলা শহরের ধানুকা বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আ. রউফ স্টেডিয়ামের সামনে চলন্ত গাড়ি থামাতে গিয়ে যাত্রীবাহী মিনিবাসের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন রতন পোদ্দার (৫৫)। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, যা পরিবারটিকে আরও অসহায় করে তুলেছে।
নিহত রতন পোদ্দার শরীয়তপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত গৌরঙ্গ পোদ্দারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেল থেকেই রতন পোদ্দার স্টেডিয়ামের সামনের সড়কে বিভিন্ন গাড়িকে হাতের ইশারায় সরিয়ে দিচ্ছিলেন। বিষয়টি দেখে স্থানীয় অনেকে সেখানে জড়ো হন এবং কেউ কেউ ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন।
সন্ধ্যার পর শরীয়তপুর আন্তজেলা বাস মালিক সমিতির একটি মিনিবাস দ্রুতগতিতে ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় রতন গাড়িটিকে হাতের ইশারা দেন। এ সময় বাসটি তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত চলে যায়, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন, তবে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ধাওয়া করে বাসটি ও চালককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। নিহতের প্রতিবেশী শহিদুল ইসলাম ঢালী জানান, মাসখানেক আগে রতন পোদ্দারের স্ত্রী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই রতন মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।
রতন ও তার স্ত্রীর তিন সন্তান। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, তবে ছোট দুই সন্তান তাদের বাবার ওপরই নির্ভরশীল ছিল। মায়ের মৃত্যুর এক মাসের মধ্যেই বাবাকেও হারিয়ে সন্তানরা এখন অভিভাবকহীন। প্রতিবেশী শহিদুল ইসলাম ঢালী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করেছেন এবং বাচ্চাগুলোর ভবিষ্যতের জন্য সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানিয়েছেন, বাস ও চালক আটক রয়েছে এবং ভুক্তভোগীর মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ২৪আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ৩৬


























