সাঘাটায় ওয়াপদা সড়কে ধস, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন
- আপডেট সময় : ০৪:২৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী ওয়াপদা সড়কে ব্যাপক ধস দেখা দিয়েছে। এতে বগুড়ার মোকামতলা মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগকারী এই একমাত্র সড়কটিতে বড় ও মাঝারি ধরনের যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কেবল ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলা সদর থেকে জুমারবাড়ী ও সোনাতলা হয়ে বগুড়ার মোকামতলা মহাসড়কে যুক্ত হওয়ার একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি। সড়কটির ডাকবাংলা থেকে জুমারবাড়ী বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার ওয়াপদা বাঁধ অংশে এই ধস নেমেছে। গত ছয় মাসে পুরো বাঁধজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং অন্তত পাঁচটি স্থানে বড় আকারের ধস দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ডাকবাংলা পার হয়ে ঘুরিদহ অংশ, টেকনিক্যাল কলেজ এলাকা, জুটিয়ারপাড়া এবং বসন্তেরপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কটি ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২৩ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাঘাটা ইউনিয়নের বাঁশহাটা উকুনপাগলীর মোড় থেকে জুমারবাড়ী ইউনিয়নের বসন্তের পাড়া পর্যন্ত এই বাঁধটি সংস্কার করেছিল। তবে সংস্কার কাজের সময় বাঁধের গোড়া কেটে গভীর করা, বারাম খোঁড়াখুঁড়ি এবং অতিরিক্ত বালু ব্যবহার করার কারণেই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বাঁধের একপাশে ব্যক্তিগত চাষাবাদ, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি ধসে যাচ্ছে।
জুমারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আরিফুর রহমান জানান, সড়কটির নির্মাণ কাজ অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় এটি ঘন ঘন ধসে যাচ্ছে। রাতের অন্ধকারে চলাচল করতে গিয়ে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘুড়িদহ এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই পানির টানে সড়কের বালু ধসে পড়ে। ফলে এই রাস্তায় গাড়ি চালানো এখন অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে জুমারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম জানান, সড়কটি ধসে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। এলজিইডির সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হেলালুর রহমান বলেন, সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন দপ্তরকে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় মাপজোখ সম্পন্ন করা হয়েছে। দ্রুতই সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হবে।
উল্লেখ্য, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (02 September 2026) তারিখ ১৫:৫৬ (15:56) মিনিটে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
গত ৬ মাসে বাঁধজুড়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অন্তত পাঁচটি স্থানে বড় আকারে ধসে গেছে। এতে করে বড় ও মাঝারি যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। প্রয়োজনের তাগিদে জনসাধারণ ভ্যান ও অটোতে কোনো মতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় কবলে পড়ছে প্রতিদিন।



























