ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ ইসরাইলকে আরও একঘরে করেছে: মারওয়ান বিশারা হ্যাকিং ও প্রতারণা থেকে বাঁচতে অনলাইনে মেনে চলুন ৬ নিয়ম তরুণরাই বাংলাদেশ: আগামীর নেতৃত্ব দেবে এই প্রজন্ম ভারতে ফুটবল সংস্কৃতি নেই, বিস্ফোরক মন্তব্য ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তির বিয়েতে বিপুল খরচ না করে দান করুন: শ্রুতি হাসান হুতি হামলার পর সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা মিসরের ৯ লাখ টাকায় আপসের দাবি: গাড়িচাপায় নিহত শ্রমিকের ন্যায়বিচার কি অধরা? বিমান বাহিনীর ১৩২তম জেসিএসসি কোর্সের সনদপত্র বিতরণ করলেন বিমান বাহিনী প্রধান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মোকাবিলায় জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ঘোষণা ইরানের

সেপ্টেম্বরের পরও কাতারের এলএনজি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহে কাতার এনার্জির ‘ফোর্স মেজর’ বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির ঘোষণার মেয়াদ বাড়ানোর ফলে এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতাদের মতো বাংলাদেশেও কাতারের নির্ধারিত এলএনজি কার্গো আসা বন্ধ থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্লুমবার্গের তথ্যের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দোহা নিউজ জানিয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ফোর্স মেজরের মেয়াদ সেপ্টেম্বর মাসের পরও বাড়ানো হয়েছে। তবে পেট্রোবাংলা এখনও এ বিষয়ে কাতার এনার্জির কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পায়নি বলে জানিয়েছে।

সাধারণত যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারির মতো নিয়ন্ত্রণের বাইরের পরিস্থিতিতে চুক্তির শর্ত পূরণ থেকে সাময়িক অব্যাহতি পেতে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের জন্য কাতারের এই সিদ্ধান্ত বড় ধাক্কা, কারণ দেশটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এলএনজি সরবরাহকারী। স্বাভাবিক সময়ে কাতার থেকে বছরে অন্তত ৪০টি কার্গো এলেও চলতি অর্থবছরে দুটি চুক্তির অধীনে ৫৬টি কার্গো পাওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এর অর্ধেক বা ২৮টির মতো কার্গো পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, নভেম্বর পর্যন্ত ফোর্স মেজর বাড়ানোর সরাসরি তথ্য না পেলেও অন্যান্য ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতির কথা তারা শুনেছেন। যেমন—পাকিস্তানের এলএনজি কার্গো বাতিল অক্টোবর পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানানো হয়েছে এবং ইউরোপের ক্রেতারাও একই নোটিশ পেয়েছে।

এই সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে সরকার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিলেও সরবরাহকারীরা অন্তত ছয়টি কার্গো দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প-কারখানা, আবাসিক খাত ও সিএনজি সরবরাহে। সংকট সামাল দিতে পেট্রোবাংলা এখন স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। গত সপ্তাহে স্পট মার্কেট থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ ডলারের বেশি দরে দুটি কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে। এছাড়া বিকল্প উৎস বাড়াতে পেট্রোবাংলা তাদের ২৯টি সরবরাহকারী কোম্পানির তালিকায় নতুন করে আরও ৯টি কোম্পানি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পর গত ৪ মার্চ কাতার এনার্জি প্রথম ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছিল। আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইসিসের তথ্যমতে, সংঘাতের প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করেছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯টি। এই রপ্তানি হ্রাসের কারণে কাতারের রাজস্ব আয় প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার বা ২০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ইউরো কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও দেশটির জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানিয়েছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইইইএফএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথভাবে পাকিস্তানের ৯৯ শতাংশ, বাংলাদেশের ৭২ শতাংশ এবং ভারতের ৫৩ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ করে থাকে। এই সংকটের কারণে ভারত ইতিমধ্যে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করেছে এবং পাকিস্তান জরুরি গ্যাস ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশের জন্যও নভেম্বর পর্যন্ত এই সরবরাহের অনিশ্চয়তা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যেখানে একদিকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কার্গো কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং অন্যদিকে স্পট মার্কেটে অতিরিক্ত দামের চাপ সামলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এখন সরকারের মূল পরীক্ষা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

সেপ্টেম্বরের পরও কাতারের এলএনজি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহে কাতার এনার্জির ‘ফোর্স মেজর’ বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির ঘোষণার মেয়াদ বাড়ানোর ফলে এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতাদের মতো বাংলাদেশেও কাতারের নির্ধারিত এলএনজি কার্গো আসা বন্ধ থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্লুমবার্গের তথ্যের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দোহা নিউজ জানিয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ফোর্স মেজরের মেয়াদ সেপ্টেম্বর মাসের পরও বাড়ানো হয়েছে। তবে পেট্রোবাংলা এখনও এ বিষয়ে কাতার এনার্জির কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পায়নি বলে জানিয়েছে।

সাধারণত যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারির মতো নিয়ন্ত্রণের বাইরের পরিস্থিতিতে চুক্তির শর্ত পূরণ থেকে সাময়িক অব্যাহতি পেতে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের জন্য কাতারের এই সিদ্ধান্ত বড় ধাক্কা, কারণ দেশটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এলএনজি সরবরাহকারী। স্বাভাবিক সময়ে কাতার থেকে বছরে অন্তত ৪০টি কার্গো এলেও চলতি অর্থবছরে দুটি চুক্তির অধীনে ৫৬টি কার্গো পাওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এর অর্ধেক বা ২৮টির মতো কার্গো পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, নভেম্বর পর্যন্ত ফোর্স মেজর বাড়ানোর সরাসরি তথ্য না পেলেও অন্যান্য ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতির কথা তারা শুনেছেন। যেমন—পাকিস্তানের এলএনজি কার্গো বাতিল অক্টোবর পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানানো হয়েছে এবং ইউরোপের ক্রেতারাও একই নোটিশ পেয়েছে।

এই সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে সরকার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিলেও সরবরাহকারীরা অন্তত ছয়টি কার্গো দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প-কারখানা, আবাসিক খাত ও সিএনজি সরবরাহে। সংকট সামাল দিতে পেট্রোবাংলা এখন স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। গত সপ্তাহে স্পট মার্কেট থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ ডলারের বেশি দরে দুটি কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে। এছাড়া বিকল্প উৎস বাড়াতে পেট্রোবাংলা তাদের ২৯টি সরবরাহকারী কোম্পানির তালিকায় নতুন করে আরও ৯টি কোম্পানি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পর গত ৪ মার্চ কাতার এনার্জি প্রথম ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছিল। আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইসিসের তথ্যমতে, সংঘাতের প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করেছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯টি। এই রপ্তানি হ্রাসের কারণে কাতারের রাজস্ব আয় প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার বা ২০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ইউরো কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও দেশটির জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানিয়েছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইইইএফএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথভাবে পাকিস্তানের ৯৯ শতাংশ, বাংলাদেশের ৭২ শতাংশ এবং ভারতের ৫৩ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ করে থাকে। এই সংকটের কারণে ভারত ইতিমধ্যে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করেছে এবং পাকিস্তান জরুরি গ্যাস ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশের জন্যও নভেম্বর পর্যন্ত এই সরবরাহের অনিশ্চয়তা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যেখানে একদিকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কার্গো কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং অন্যদিকে স্পট মার্কেটে অতিরিক্ত দামের চাপ সামলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এখন সরকারের মূল পরীক্ষা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh