কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেট ২ ফুট খোলা, কর্ণফুলীতে নামছে ৩৯ হাজার কিউসেক পানি
- আপডেট সময় : ০৪:৩৬:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

টানা দুই সপ্তাহের প্রবল বর্ষণে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট (স্পিলওয়ে) দুই ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ছে। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান গতকাল রবিবার সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হ্রদের পানি ধারণক্ষমতার কাছাকাছি চলে আসায় বাঁধের ওপর চাপ কমাতে ও অতিরিক্ত পানি নিরাপদে নিষ্কাশন করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রবিবার সকাল ৮টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১০৬ দশমিক ২ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। অথচ এই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা হচ্ছে ১০৮ ফুট এমএসএল। এর আগে গত শনিবার দুপুরেও হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। কিন্তু উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতিতে গত শনিবার রাতে প্রথমে প্রতিটি গেট ছয় ইঞ্চি করে খোলা হয়েছিল। পরে ওই রাতেই ১০টা ৩৫ মিনিটে গেট খোলার পরিমাণ আরও ছয় ইঞ্চি বাড়িয়ে এক ফুট করা হয়, যাতে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছিল। সর্বশেষ রবিবার সকালে গেটগুলো দুই ফুট পর্যন্ত উন্মুক্ত করা হলে পানি ছাড়ার পরিমাণ বেড়ে ৩৯ হাজার কিউসেকে পৌঁছায়।
এদিকে কাপ্তাই হ্রদে পর্যাপ্ত পানি থাকায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের সবকটি চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এই কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। তবে বাঁধের গেট খুলে দেওয়ার কারণে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা এবং নৌপথে চলাচলকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নদীর পানি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪: ১২আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪: ১৬




























