ঢাকা ০৮:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ৫ গুণ বাড়ালো ইসি মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা নোয়াখালীতে নিম্নমানের সেতু নির্মাণ, দুই প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সাবেক সাত এমপি ও তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা আপা আর ফিরে আসবে না, খুনিদের ছাড় নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বারিধারায় গাড়িচাপা: কিশোর চালক আজান আলী শরীফ অবশেষে গ্রেপ্তার সম্ভাবনা থেকে সংকটে গণঅধিকার পরিষদ: রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই মাস্টার্স পরীক্ষার আগেই বিচারক হলেন ইবির রাজু আহমেদ

লুটপাটে মুখ থুবড়ে পড়েছে রংপুরের বদরগঞ্জের এসডিএফ কার্যক্রম

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২: ৫৯। রংপুরের বদরগঞ্জে সামাজিক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের (এসডিএফ) কার্যক্রম কোটি কোটি টাকা লুটপাটের কারণে বর্তমানে মুখ থুবড়ে পড়েছে। একসময় দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে উপজেলার ১০ ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু হলেও এখন তার সবই বন্ধ। অনেক কার্যালয় এখন ঝোপঝাড়ে ঢাকা, আবার কোথাও তালা ভেঙে ঘরগুলোকে গোখাদ্য, জ্বালানি, ধান-ভুট্টা বা গবাদিপশু রাখার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অধিকাংশ ভবনের দরজা-জানালা ভাঙা এবং আসবাবপত্রও গায়েব হয়ে গেছে।

২০১১ সালে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এই প্রকল্প বদরগঞ্জে চালু হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নে জমি কিনে সমিতিগুলোর কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই জমি কেনা ও ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। শুরুতে কার্যক্রম চললেও বছরখানেকের মধ্যেই তা দুর্বল হতে থাকে এবং একপর্যায়ে সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক সদস্য তাদের জমানো সঞ্চয়ের টাকা আর ফেরত পাননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

লোহানীপাড়া ইউনিয়নের শিমুলঝুড়ি এসডিএফ গ্রাম সমিতির কাছে ১০ শতাংশ জমি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন মমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, সমিতির নামে পাকা কার্যালয় তৈরি হলেও ঋণের বড় অংশ আর আদায় হয়নি। এদিকে, বদরগঞ্জ শহর থেকে দেড় কিলোমিটার পূর্বে মণ্ডলপাড়ায় অবস্থিত এসডিএফের একটি টাইলস করা ভবন বর্তমানে একটি মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোশরেফা বেগম চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাফেজ মাওলানা তুহিন মিয়ার কাছে ভবনটি মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাড়ায় চুক্তিবদ্ধ করেন। তবে যোগাযোগ করা হলে মোশরেফা বেগম ফোন কেটে দেন এবং পরে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এই প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ছিল। ২০১১ সালে শুরু হওয়া তিন বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের কার্যক্রম ২০১৫ সালের নভেম্বরে শেষ হয়। বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে রংপুর জেলা ব্যবস্থাপক নাসরুল্লাহ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বদরগঞ্জের অফিসের প্রধান আলমিনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। ২২ আগস্ট আলমিনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অফিসে কোনো কাগজপত্র নেই, সব নথি রংপুরের প্রধান কার্যালয়ে রয়েছে। প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, জমি কেনা ও ঋণ আদায়ের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লোহানীপাড়া ইউনিয়নের শিমুলঝুড়ি এসডিএফ গ্রাম সমিতির কাছে জমি বিক্রি করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, ২০১০ সালে প্রায় ১০ শতাংশ জমি ১০ লাখ টাকায় সমিতির নামে বিক্রি করেন। পরে সেখানে সমিতির পাকা কার্যালয় নির্মাণ করা হয়। সদস্যদের মধ্যে লাখ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হলেও সেই ঋণের বড় অংশ আর আদায় হয়নি বলে তিনি জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

লুটপাটে মুখ থুবড়ে পড়েছে রংপুরের বদরগঞ্জের এসডিএফ কার্যক্রম

আপডেট সময় : ০৩:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২: ৫৯। রংপুরের বদরগঞ্জে সামাজিক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের (এসডিএফ) কার্যক্রম কোটি কোটি টাকা লুটপাটের কারণে বর্তমানে মুখ থুবড়ে পড়েছে। একসময় দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে উপজেলার ১০ ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু হলেও এখন তার সবই বন্ধ। অনেক কার্যালয় এখন ঝোপঝাড়ে ঢাকা, আবার কোথাও তালা ভেঙে ঘরগুলোকে গোখাদ্য, জ্বালানি, ধান-ভুট্টা বা গবাদিপশু রাখার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অধিকাংশ ভবনের দরজা-জানালা ভাঙা এবং আসবাবপত্রও গায়েব হয়ে গেছে।

২০১১ সালে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এই প্রকল্প বদরগঞ্জে চালু হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নে জমি কিনে সমিতিগুলোর কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই জমি কেনা ও ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। শুরুতে কার্যক্রম চললেও বছরখানেকের মধ্যেই তা দুর্বল হতে থাকে এবং একপর্যায়ে সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক সদস্য তাদের জমানো সঞ্চয়ের টাকা আর ফেরত পাননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

লোহানীপাড়া ইউনিয়নের শিমুলঝুড়ি এসডিএফ গ্রাম সমিতির কাছে ১০ শতাংশ জমি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন মমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, সমিতির নামে পাকা কার্যালয় তৈরি হলেও ঋণের বড় অংশ আর আদায় হয়নি। এদিকে, বদরগঞ্জ শহর থেকে দেড় কিলোমিটার পূর্বে মণ্ডলপাড়ায় অবস্থিত এসডিএফের একটি টাইলস করা ভবন বর্তমানে একটি মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোশরেফা বেগম চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাফেজ মাওলানা তুহিন মিয়ার কাছে ভবনটি মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাড়ায় চুক্তিবদ্ধ করেন। তবে যোগাযোগ করা হলে মোশরেফা বেগম ফোন কেটে দেন এবং পরে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এই প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ছিল। ২০১১ সালে শুরু হওয়া তিন বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের কার্যক্রম ২০১৫ সালের নভেম্বরে শেষ হয়। বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে রংপুর জেলা ব্যবস্থাপক নাসরুল্লাহ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বদরগঞ্জের অফিসের প্রধান আলমিনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। ২২ আগস্ট আলমিনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অফিসে কোনো কাগজপত্র নেই, সব নথি রংপুরের প্রধান কার্যালয়ে রয়েছে। প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, জমি কেনা ও ঋণ আদায়ের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লোহানীপাড়া ইউনিয়নের শিমুলঝুড়ি এসডিএফ গ্রাম সমিতির কাছে জমি বিক্রি করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, ২০১০ সালে প্রায় ১০ শতাংশ জমি ১০ লাখ টাকায় সমিতির নামে বিক্রি করেন। পরে সেখানে সমিতির পাকা কার্যালয় নির্মাণ করা হয়। সদস্যদের মধ্যে লাখ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হলেও সেই ঋণের বড় অংশ আর আদায় হয়নি বলে তিনি জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh