শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু করতে লাগবে ৯০২ কোটি টাকা
- আপডেট সময় : ০৭:৫১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু করার জন্য ৯০২ কোটি টাকার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। রোববার জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার শুধু একটি ভবন উদ্বোধন করেছিল, কিন্তু এর অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করা হয়নি। বর্তমান সরকার এই টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের এ সম্পদ ফেলে রাখলে রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে। যত দ্রুত সম্ভব এটি চালু করা গেলে জাইকার ঋণ পরিশোধ করা সহজ হবে এবং যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা দ্বিগুণ হবে।
এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামের (এডিসি) বকেয়াসহ প্রয়োজনীয় কাজের জন্য এই ৯০২ কোটি টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা অর্থ মন্ত্রণালয় করেছে বলে মন্ত্রী জানান। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ইতিমধ্যে অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফারের (ওআরএটি) ৫৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করার চেষ্টা চলছে।
সংসদে বিমানের নতুন ৯টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি প্রসঙ্গে বিএনপির সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে করা এসব চুক্তিতে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। যাত্রী হয়রানি রোধে বেবিচক সচেষ্ট রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে ৮৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রথম লাগেজ ১৮ মিনিটের মধ্যে এবং শেষ লাগেজ ৫৮ মিনিটের মধ্যে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ট্রাভেল এজেন্সি আইন ও বেসামরিক বিমান চলাচল আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা আনতে ১০ দফার একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, সেন্ট মার্টিনে অবৈধভাবে রিসোর্ট নির্মাণের বিষয়টি স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে এবং এটি দ্রুত বন্ধ করা সম্ভব হবে। এছাড়া ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী জানান, গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইউরিয়া ২৬ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন, টিএসপি ৭ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন, ডিএপি ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ও এমওপি ৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের চাহিদা রয়েছে এবং সারের কোনো ঘাটতি নেই। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানান, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য জুলাই অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং গুম-হত্যার শিকার ব্যক্তিদের জন্য আলাদা আরেকটি অধিদপ্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটনকেন্দ্র চিহ্নিত করে মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহারকারীদের তথ্য চেয়ে সব দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

























