অষ্টগ্রামে ১৭৮ কোটি টাকার সেতু নির্মাণ বন্ধ, ঠিকাদার উধাও
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় মেঘনা নদীর ওপর বহুল প্রতীক্ষিত ‘বাঙালপাড়া-চাতলপাড় সেতু’ নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন সাইট ছেড়ে চলে গেছে। এতে চরম হতাশায় পড়েছেন হাওড়াঞ্চলের হাজারো মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙালপাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের দুর্গাপুর পর্যন্ত মেঘনা নদীর ওপর এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মানিক মিয়া আত্মগোপনে চলে যান। এরপর কাজের গতি থমকে যায় এবং একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সব যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী গুটিয়ে গোপনে সাইট ত্যাগ করে। বর্তমানে নদীতে কেবল কয়েকটি অসম্পূর্ণ পিলার দাঁড়িয়ে রয়েছে।
সেতুটির কাজ বন্ধ থাকায় বর্ষাকালে উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিতে স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা নৌকা বা ট্রলার। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমেও খেয়া পারাপারে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। ফলে জেলা সদর ও ঢাকাসহ সারা দেশের সঙ্গে সড়কপথে সরাসরি যোগাযোগের স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোশারফ হোসেন মাস্টার বলেন, এই সেতুটি শুধু দুটি জেলার সংযোগস্থল নয়, এটি পুরো হাওড়বাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সেতুটির কাজ শেষ হলে এলাকার কৃষিপণ্য সহজে দেশজুড়ে সরবরাহ করা যাবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের ব্যাপক প্রসার ঘটবে।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তি ভঙ্গ করে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব প্রশাসনিক অনুমোদন শেষ করে দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে পুনরায় সেতুর কাজ শুরু করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হাওড়াঞ্চলের সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা।























