চট্টগ্রামের বরইতলীতে পাহাড় দখল ও বসতি স্থাপনের হিড়িক
- আপডেট সময় : ০৯:২০:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম নগরের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বরইতলী এলাকায় পাহাড়ের গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বসতির সারি। পাহাড় কেটে সমান করা জায়গা কিংবা ঢালে ঠেস দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে টিন, বাঁশ ও বেড়ার ছোট ছোট ঘর। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু বরইতলীতেই তিন শতাধিক পরিবার বসবাস করছে, যার শুরুটা হয়েছিল প্রায় চার দশক আগে। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর সন্দ্বীপ ও হাতিয়াসহ উপকূলের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষ এখানে বসতি গড়তে শুরু করেন।
ভূমি অফিসের তথ্যমতে, জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলী মৌজার ৩৫৯২, ৩৬৯৬, ৩০৫৩ ও ৩৫৪০ নম্বর বিএস দাগের মোট ৯৪ দশমিক ৪৫ একর জমি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি ভূমি। সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব দাগের বড় অংশে পাহাড় রয়েছে এবং সেখানে বিভিন্নভাবে বসতি বিস্তার লাভ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোট জায়গা পাওয়ার জন্য তারা ৭০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন। তবে এর বিপরীতে কেউ কোনো বৈধ মালিকানার দলিল দেখাতে পারেননি। এমনকি পাঁচটি সেমিপাকা ঘরসহ একটি জায়গা সাত লাখ টাকায় হাতবদলের লিখিত কাগজও পাওয়া গেছে, যেখানে জমির শ্রেণি লেখা হয়েছে 'টিলা'।
পাহাড় কাটার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ১৪টি স্থান পরিদর্শন করে ১৮ হাজার ৯৯৪ ঘনফুট বা প্রায় ৫৩৮ ঘনমিটার পাহাড়ি মাটি কাটার প্রমাণ পেয়েছে। গত ৪ আগস্ট পাহাড় কাটার দায়ে ১৪ জনকে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালীরা পাহাড় কাটা ও নতুন ঘর নির্মাণে প্রভাব বিস্তার করে। হাটহাজারী উপজেলা ভূমি অফিসের প্রতিবেদনে পাহাড় কাটার সঙ্গে মোহাম্মদ হোসাইনের নাম উঠে এসেছে, যিনি নিজেকে বিএনপির কর্মী পরিচয় দিলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এছাড়া মো. রুবেল নামে আরেকজনের বিরুদ্ধে জায়গা হাতবদলে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে, যিনি শ্রমিক দলের সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক পরিচয় দিলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মোহাম্মদ মানিক ১৯৮৬ সালের দিকে ৩ নম্বর বাজার এলাকায় বসবাস শুরু করেন। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, 'আরেকটা জঙ্গল সলিমপুর হওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সেখানে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করা হবে।' চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন মনে করেন, নিম্নবিত্ত মানুষকে সামনে রেখে পাহাড় দখলের এই প্রবণতা জঙ্গল সলিমপুরের মতোই জটিল আকার ধারণ করছে, তাই এখনই এটি বন্ধ করা জরুরি।




























