এলএনজি সংকটে কমেছে গ্যাস সরবরাহ, দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং
- আপডেট সময় : ০১:৪১:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

দেশে এলএনজি সংকটের কারণে গ্যাস সরবরাহ ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বুধবার বিকেল তিনটা থেকে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি (এফএসআরইউ) গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। মূলত এলএনজি কার্গোর অভাবে টার্মিনালটির মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জ্বালানি খাতের এই সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ কমে যাওয়ায় লোডশেডিংয়ের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে লোডশেডিং করা হচ্ছে এবং সন্ধ্যার পর একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তীব্র গরমের মধ্যে এই ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও নাজুক রূপ নিয়েছে।
পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টায় দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। এর সঙ্গে দেশীয় কূপ থেকে পাওয়া ১৬২ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট যুক্ত হয়ে মোট সরবরাহ ছিল ২২৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। কিন্তু এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টায় এলএনজি সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ৫৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুটে। একই সময়ে দেশীয় গ্যাস সরবরাহ সামান্য কমে ১৬২ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট হওয়ায় মোট সরবরাহ দাঁড়ায় ২১৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। বর্তমানে নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহের জন্য কেবল সামিটের টার্মিনালের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে অন্তত ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও বুধবার সন্ধ্যায় সরবরাহ ছিল মাত্র ২১৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট, অর্থাৎ ঘাটতি ছিল ১৬১ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। গ্যাস সরবরাহের এই ঘাটতি বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
পাওয়ার গ্রিডের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বুধবার সকাল ১০টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ১৭ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং ছিল মাত্র ১১৭ মেগাওয়াট। কিন্তু দুপুর দুইটায় চাহিদা বেড়ে ১৫ হাজার ২০৬ মেগাওয়াট হলে সরবরাহ দাঁড়ায় ১৪ হাজার ১৩৯ মেগাওয়াটে, যার ফলে লোডশেডিং বেড়ে হয় ১ হাজার ৬৭ মেগাওয়াট। বিকেল পাঁচটায় চাহিদা ১৫ হাজার ৫০৪ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ কমে ১৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে নামলে লোডশেডিং দাঁড়ায় ১ হাজার ৮০৪ মেগাওয়াটে।
সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও চরম আকার ধারণ করে। সন্ধ্যা সাতটায় বিদ্যুতের চাহিদা একলাফে বেড়ে ১৭ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াটে পৌঁছালেও সরবরাহ নেমে আসে ১৪ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াটে। এ সময় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৩০ মেগাওয়াট। এমনকি রাত ৯টায়ও লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৪৩ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, চাহিদা বাড়লেও প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টি না হলে বৃহস্পতিবারও এই তীব্র লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি অব্যাহত থাকতে পারে।


























