রোহিঙ্গাদের আবার ‘বাঙালি’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাবাসন জটিল করছে মিয়ানমার
- আপডেট সময় : ০৭:২৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের আবারও ‘বাঙালি’ বলে দাবি করেছে দেশটির জান্তা সরকার। এই প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে মিয়ানমার সরকার ও রাখাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার। তবে হুট করে মিয়ানমার সরকারের এমন বিবৃতির পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও জটিলতার মুখে পড়বে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মিয়ানমার সরকারের দাবি, ‘রোহিঙ্গা’ নামে কোনো জাতিগোষ্ঠী তাদের দেশে নেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো বাস্তব ইচ্ছা মিয়ানমারের নেই এবং সেটি আড়াল করতেই এই ‘বাঙালি’ বিতর্ক নতুন করে সামনে আনা হয়েছে। এটি মূলত দেশটির জান্তা সরকারের একটি পুরোনো কৌশল। ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আরও প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল।
আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের (আরএনও) সঙ্গে যুক্ত নূরুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের পরিস্থিতি এমনিতেই জটিল রূপ নিয়েছে। নতুন বিবৃতির মাধ্যমে জান্তা সরকার সেই সংকটকে আরও তীব্র করল। তিনি বলেন, “তারা রোহিঙ্গা নিধন করেছে, তাই এখন সেটি স্বীকার করবে কীভাবে? বিশ্ব সম্প্রদায় তাদের দায়মুক্তি দেওয়ার কারণেই তারা এমন ধৃষ্টতা দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে। রোহিঙ্গারা রাখাইন তথা মিয়ানমারের প্রকৃত নাগরিক। কিন্তু এটি মেনে নিয়ে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমার সরকার কখনোই আন্তরিকতা দেখায়নি। এবারের বিবৃতিও সেই অনাগ্রহের ধারাবাহিকতা মাত্র।” উল্লেখ্য, মিয়ানমার তাদের স্বীকৃত ১৩৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত করে না এবং বরাবরই তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে।
মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম মনে করেন, ‘বাঙালি’ বিতর্কে বাংলাদেশের জড়ানো মোটেও উচিত হবে না। তার মতে, বাংলাদেশের স্পষ্ট অবস্থান হওয়া উচিত—মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার লক্ষ্যেই মিয়ানমার সরকার বিবৃতির নামে এই কৌশল নিয়েছে।
হুট করে মিয়ানমারের এমন অবস্থানের পেছনে ভূরাজনৈতিক সমীকরণ থাকতে পারে বলে মনে করেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ’ করিডরের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। মিয়ানমার সরকার মূলত এই করিডর চায় না। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক ও সহজ না হলে এ ধরনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই করিডর প্রকল্প এড়াতেও মিয়ানমার নতুন করে এই বিতর্ক তৈরি করে থাকতে পারে।
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ২৭আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ৩১


























