৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোট হবে ‘ওপেন’ ব্যালটে
- আপডেট সময় : ০৫:০৫:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে ব্যালটের গোপনীয়তার চেয়ে স্বচ্ছতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে ভোটাররা কে কাকে ভোট দিচ্ছেন তা উপস্থিত সবার কাছে দৃশ্যমান থাকবে। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দীন। আইন অনুযায়ী এ নির্বাচনের পুরো দায়িত্ব সিইসির ওপর থাকায় তিনি নিজেই বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর ওই দিনই ক্যাবিনেট ডিভিশন থেকে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিইসি জানান, ১৯৯১ সালের পর সংসদীয় পদ্ধতিতে এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় এমন নির্বাচন না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতায় কিছুটা ঘাটতি থাকলেও প্রয়োজনীয় মহড়া ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
সংসদের নিয়মিত অধিবেশন না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী সিইসি নিজেই সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করেছেন এবং গত ১১ আগস্ট এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই এই নির্বাচনের ভোটার। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ১৩ আগস্ট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে ড. অলি আহমদের নামে দুটি এবং বিএনপির পক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে একটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। গত ১৬ আগস্ট জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহযোগিতায় যাচাই-বাছাই শেষে প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর মিলিয়ে তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে ড. অলি আহমদের একটি অতিরিক্ত মনোনয়নপত্র বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও কেউ নাম প্রত্যাহার করেননি।
সিইসি জানান, এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা মোট ৩৪৯ জন। সংসদীয় সীমানার সাধারণ সিরিয়াল অনুযায়ী ভোট না হয়ে সংসদের 'বিভক্তি নম্বর' অনুযায়ী ভোটগ্রহণ হবে। চট্টগ্রাম-৪ আসনের উপনির্বাচন বা আসন শূন্য থাকার কারণে বিভক্তি নম্বরে কিছুটা অসংলগ্নতা তৈরি হলেও তা নিয়ম অনুযায়ী সমাধান করা হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ চলবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্যরা এতে ভোট দেবেন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই বিকেল ৫টা থেকে গণনা শুরু হবে এবং সিইসি নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করবেন。
নির্বাচনে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যালট পেপারে ভোটার ও প্রার্থীদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে, যাতে কে কাকে ভোট দিচ্ছেন তা উপস্থিত সবাই দেখতে পারেন। এছাড়া ভিআইপি ভোটারদের ভোটদান ও ভোট গণনার দৃশ্য বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ভোটের দিন সংসদ ভবনের ভেতরে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না এবং সংসদ ভবনের ভেতরের পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব থাকবে স্পিকারের ওপর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের আলোচনাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে সিইসি বলেন, কিছু ব্যালট ও স্টেশনারি ছাড়া ইসির আলাদা কোনো বড় আর্থিক ব্যয় বা অতিরিক্ত বাজেট তৈরি হয়নি। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ নজর রয়েছে এই নির্বাচনের দিকে। সিইসি আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় একটি ঐতিহাসিক ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।

























