দিনমজুরের কাজ করেও জিপিএ ৫ পেয়ে চমক কুড়িগ্রামের পলাশের
- আপডেট সময় : ০৭:০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব দিলাম গ্রামের সুধাংশু চন্দ্র রায়ের ছেলে পলাশ চন্দ্র রায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জন করে এলাকায় বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। বড়ভিটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণ করা ৭২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৫ জন পাস করেছেন এবং ১৩ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন। এই ১৩ জনের মধ্যে পলাশের সাফল্য সবার কাছে অবিশ্বাস্য ও অনুপ্রেরণাদায়ক হিসেবে দেখা দিয়েছে।
পলাশের শিক্ষাজীবন ছিল নানামুখী প্রতিবন্ধকতায় ভরা। অভাবের কারণে অধিকাংশ সময় তার জন্য টিফিন, প্রাইভেট টিউশন বা নতুন পোশাক জোটেনি। পরিবারের অস্বচ্ছতা তার স্বপ্নকে দমানোর চেষ্টা করলেও সে হার মানেনি। সংসারের প্রয়োজনে বাবার সঙ্গে অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করেছেন তিনি। তার বাবা সুধাংশু চন্দ্র রায়ের নিজস্ব কোনো চাষযোগ্য জমি নেই। ৫ শতক জমিতে একটি টিনের ঝুপড়ি ঘরে ছয়জনের সংসার চলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম হিসেবে বাবার হাড়ভাঙা পরিশ্রম দেখে পলাশ নিজেও জীবনযুদ্ধে নেমে পড়েন।
ভালো ফলাফল করলেও পলাশের উচ্চশিক্ষা নিয়ে এখন পরিবারে দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে। পলাশের মা পূর্ণিমা রানি জানান, অভাবের সংসার সামলে ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। এখন কলেজে ভর্তি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন এবং যথাযথ সহযোগিতা না পেলে ছেলের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
পলাশ তার সাফল্যের জন্য বাবা-মা ও শিক্ষকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক কষ্টের মাঝেও সবার সহযোগিতায় আমি এই ফলাফল অর্জন করেছি। আমার স্বপ্ন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা এবং মানুষের সেবা করা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরীফ উদ্দিন পলাশকে অত্যন্ত গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, শিক্ষকরা তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন এবং তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের ফলেই সে এই সাফল্য পেয়েছে।




























