রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের তথ্যে অসংগতি, সংশোধনের তাগিদ ঢাকার
- আপডেট সময় : ০৮:২১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া তথ্যে অসংগতি ও ভুল থাকার অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মোর সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে এই বিষয়টি তুলে ধরেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (মিয়ানমার অনুবিভাগ) মো. তৌফিক-উর-রহমান। মন্ত্রণালয় জানায়, রোহিঙ্গা সংক্রান্ত সঠিক তথ্যের জন্য জাতিসংঘ ব্যবস্থার অধীন নিবন্ধিত উপাত্তই নির্ভরযোগ্য।
গত শনিবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছিল, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর তালিকা জুলাইয়ের শেষ নাগাদ তারা যাচাই-বাছাই করেছে। মিয়ানমার দাবি করে, যাচাই করা ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের বাসিন্দা। তবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় সফলভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ৪ হাজার ২৪১ জন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে তারা উল্লেখ করে। এছাড়া রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেছে মিয়ানমার।
আজকের বৈঠকে মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর ভিত্তিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান। তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, শরণার্থীশিবিরে জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া নতুন আগমনকারীদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ বর্তমানে তাদের নিবন্ধনের কাজ করছে এবং তালিকার পরবর্তী অংশ যথাসময়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বিনিময় করা হবে।
তৌফিক-উর-রহমান স্পষ্ট করেন যে, রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নন, বরং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বীকৃত তাঁদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় রয়েছে। তিনি যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত তথ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত করার অনুরোধ জানান। এর জবাবে রাষ্ট্রদূত সো মো বাংলাদেশের উদ্বেগগুলো তাঁর দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং প্রত্যাবাসন শুরু করতে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে তাঁর সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আবারও উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিহিত রয়েছে তাঁদের নিজ ভিটেমাটি রাখাইনে নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের মধ্যে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের মুখে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে থেকেই কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে অবস্থান করছিল, যারা মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও জাতিগত মিলিশিয়াদের সহিংসতা থেকে রক্ষা পেতে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছিল। এদিকে মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, রাখাইনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হলে বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গাকে তারা ফেরত নেবে।


























