ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় রাজধানীর বাজারে সবজির চড়া দাম তিন জোড়া কবুতরে শুরু, এখন সংসারের হাল ধরেছেন স্বপ্না রানী চট্টগ্রামের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি রেলের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে এক মাসের দায়িত্ব চাইলেন মাহবুব কবীর পিরোজপুরে ভেজাল শিশুখাদ্য তৈরির কারখানা সিলগালা, মালিকের কারাদণ্ড নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা: ছাত্রদল নেতার স্বীকারোক্তিতে কুষ্টিয়ায় তোলপাড় আইএমএফের সঙ্গে ৪৫০ কোটি ডলারের নতুন ঋণচুক্তি হতে পারে ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আর ফেরা হবে না, শঙ্কা তসলিমা নাসরিনের থাইরয়েড সচেতনতা ও আধুনিক চিকিৎসায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জীবননগর সীমান্তে ভারতে পালানোর সময় ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

সাত মাসে দেশে ৩৪১ নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দেশে নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর সহিংসতার চিত্র আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সারা দেশে অন্তত ৩৪১ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন বলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক তথ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গতকাল রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা। সারা দেশে নারীর প্রতি অব্যাহত ধর্ষণ, হত্যা ও সহিংসতার প্রতিবাদে এদিন মহিলা পরিষদের সব জেলা শাখায় একই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম জানান, দেশের ১৪টি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে তারা এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, এই সাত মাসে হত্যাকাণ্ডের শিকার ৩৪১ জনের মধ্যে ৬৩টি ঘটনা সরাসরি ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা ও পারিবারিক কলহসহ বিভিন্ন কারণে অন্যান্য হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের সব সংবাদমাধ্যমের তথ্য হাতে পাওয়া গেলে নারীর প্রতি সহিংসতার প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু জানান, জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৬৭ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৯১ জন নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, এসব পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে নারী ও শিশুরা দেশের কোথাও পুরোপুরি নিরাপদ নয় এবং এই সহিংসতার প্রবণতা কোনোভাবেই কমছে না।

ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীসহ সমাজের সব মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নারীদের ভয় দেখিয়ে ঘরে ফেরানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধিকার আদায়ে নারীরা সংগঠিত থাকবে। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে নেতারা অঙ্গীকার করেন। তারা প্রতিটি সহিংসতার ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

সাত মাসে দেশে ৩৪১ নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার

আপডেট সময় : ০২:২৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

দেশে নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর সহিংসতার চিত্র আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সারা দেশে অন্তত ৩৪১ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন বলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক তথ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গতকাল রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা। সারা দেশে নারীর প্রতি অব্যাহত ধর্ষণ, হত্যা ও সহিংসতার প্রতিবাদে এদিন মহিলা পরিষদের সব জেলা শাখায় একই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম জানান, দেশের ১৪টি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে তারা এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, এই সাত মাসে হত্যাকাণ্ডের শিকার ৩৪১ জনের মধ্যে ৬৩টি ঘটনা সরাসরি ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা ও পারিবারিক কলহসহ বিভিন্ন কারণে অন্যান্য হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের সব সংবাদমাধ্যমের তথ্য হাতে পাওয়া গেলে নারীর প্রতি সহিংসতার প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু জানান, জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৬৭ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৯১ জন নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, এসব পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে নারী ও শিশুরা দেশের কোথাও পুরোপুরি নিরাপদ নয় এবং এই সহিংসতার প্রবণতা কোনোভাবেই কমছে না।

ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীসহ সমাজের সব মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নারীদের ভয় দেখিয়ে ঘরে ফেরানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধিকার আদায়ে নারীরা সংগঠিত থাকবে। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে নেতারা অঙ্গীকার করেন। তারা প্রতিটি সহিংসতার ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin