জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর ঘোষণা মাহদী আমিনের
- আপডেট সময় : ০৭:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন। কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
মাহদী আমিন জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে এই এক্সচেঞ্জ চালুর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে বেশ কয়েকটি সংলাপ ও আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থাকলেও এতদিন সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সমন্বয়ের জন্য কোনো সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ছিল না। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরাসরি জেলা পর্যায়ে পৌঁছে স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করা হবে। অনলাইন ও অফলাইন উভয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা সৃষ্টি, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলা হবে, যেখানে বেসরকারি খাত সরাসরি যুক্ত থাকবে। প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশের প্রতিটি জেলায় বিস্তৃত হবে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সংস্কার ও ৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১) এবং এসডিজি বিষয়ক সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে এসব কথা বলেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, সমাজের কোনো নাগরিক যেন জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে না পড়েন, সেটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় প্রশাসনিক জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা আরও জোরালো হয়েছে। সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক অভিমত ও ভোটাধিকারের ওপর ভিত্তি করেই এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।
সরকারের প্রথম বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটাসহ সাতটির বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ও কর কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারেনি। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকার কঠোর ব্যবস্থাপনায় দেশের বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
সম্প্রতি একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) কারিগরিভাবে বিকল হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সাময়িক সংকট তৈরি হলেও তা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে জ্বালানি খাত বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দীর্ঘদিনের এই স্থবিরতা ৫-৬ মাসে শতভাগ নিরসন করা সম্ভব নয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট অংশীদাররা যৌথভাবে কাজ করছেন, যাতে এই খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় এবং দেশীয় প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মাহদী আমিন আরও জানান, শিগগিরই স্বাস্থ্য খাতের আওতায় ১ লাখ নতুন পদ সৃষ্টি ও কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজার পদেই অগ্রাধিকার পাবেন নারীরা। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ চালু এবং অভিন্ন পোশাকের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শহরের উন্নত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের পাঠদান যেন গ্রামের স্কুলেও পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল সাম্য আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও তাঁদের সম্মান বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় খাল খনন কর্মসূচির মতো সর্বজনীন উদ্যোগের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এবং সংসদ সদস্য মাধবী মারমা।



























