দশমিনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে মা ইলিশ নিধন
- আপডেট সময় : ০২:৪০:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া ও বুড়া গৌরাঙ্গ নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার অব্যাহত রয়েছে। ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন পুরুষ জেলেদের পাশাপাশি নারী জেলেদেরও একাধিক ট্রলার নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে দেখা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হলেও নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অসাধু জেলেরা প্রকাশ্যেই জাল ফেলে মা ইলিশ শিকার করছেন। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে নৌ-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের কিছু অসাধু সদস্য জেলেদের নদীতে জাল ফেলার সুযোগ করে দিচ্ছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এলাকার নদীতে সরেজমিনে মাছ শিকারের এমন চিত্র দেখা যায়। স্থানীয় জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে জাল ফেলার সুযোগ করে দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। যারা এই টাকা দিতে পারছে, তারা দিন-রাত নির্বিঘ্নে মাছ ধরছে, অথচ সাধারণ জেলেরা অভিযানের মুখে পড়ছে। যদি অর্থের বিনিময়ে কাউকে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।
নিষেধাজ্ঞার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও বাঁশবাড়িয়া, ঢনঢনিয়া, গোলখালী, কাটাখালী, আউলিয়াপুর, রণগোপালদী, পাতারচর ও চরবোরহান এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে মা ইলিশ শিকার চলছে। অভিযোগ রয়েছে, দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে জেলেরা অবাধে বিচরণ করছেন এবং নদীর তীরে মাছ বিক্রিও করছেন। স্থানীয়রা এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, আমরা গরিব জেলে, ধারদেনা করে সংসার চালাই। আমরা আইনের বিরোধিতা করি না, তবে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
দশমিনা উপজেলা মৎস্য বিভাগের উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম জানান, তেঁতুলিয়া নদীর উত্তর প্রান্ত থেকে বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের বগি বাজার এলাকার বাসিন্দারা ট্রলার নিয়ে এসে মা ইলিশ শিকার করছেন। তিনি দাবি করেন, অভিযান চালাতে গেলে তারা ছোট ছোট শিশুদের নদীতে ফেলে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বাধা সৃষ্টি করেন। এছাড়া জেলেদের স্বাধীনভাবে মাছ ধরতে না দেওয়ায় মৎস্য বিভাগের নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, তিনি নিজে তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করছেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কঠোরভাবে কাজ করার জন্য নৌ-পুলিশ, থানা-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক জেলেকে আটক এবং জাল ও ট্রলার জব্দ করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।




























