বাংলাদেশের মতো দেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: রুহুল কবির রিজভী
- আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে শতভাগ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘২০২৬ সালের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথের ওপর প্রভাব’ শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) ও অধিকার যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করেছিল।
রিজভী বলেন, ভারতের মতো দেশেও শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হয় না এবং সেখানে নিয়মিত নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ উত্থাপিত হয়। তবে সেখানে ফলাফল ঘোষণার পর সবাই তা মেনে নেয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শুধু আইন করলেই হবে না, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে কোনো উদ্যোগই কার্যকর হবে না বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের নেতাদের ভাষা, শব্দচয়ন ও বাক্যবিন্যাসে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি, যাতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে সহিংসতার মানসিকতা তৈরি না হয়।
বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে রিজভী বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত অনেক নেতা-কর্মীকে দল ও অঙ্গ-সংগঠন থেকে বহিষ্কার, অব্যাহতি ও শোকজ করা হয়েছে। অতীতে কোনো ‘রংবাজ’ বা ‘মাসলম্যান’ বিরোধী দলের কার্যালয় ভাঙলে বা প্রতিহত করলে তাদের প্রশংসা করা হতো, কিন্তু এবার বিএনপি কোনো সন্ত্রাস বা দখলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে ছাড় দেয়নি। একটি দল যখন নিজেদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারে, তখন সেই দল সঠিক পথে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা বিরোধী দলের দায়িত্ব। তবে এই সমালোচনা হতে হবে পারস্পরিকভাবে উপকারী ও ভবিষ্যতমুখী, যা গণতন্ত্রের পথকে মসৃণ করবে। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আগে নিজেদের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করা জরুরি এবং একতরফাভাবে কোনো পক্ষকে দায়ী না করে উভয় পক্ষের ভূমিকা বিবেচনা করতে হবে। তার ভাষায়, ‘এক হাতে তালি বাজে না।’
সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘২০২৬ সালের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথের ওপর প্রভাব’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) ও অধিকার যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।




























