ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ স্মৃতির অপেক্ষায় আজও প্রহর গুনছি চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ও ভূমিধসের শঙ্কা আগারগাঁওয়ে ভাইরাল মিজানের হোটেল আবারও উচ্ছেদ, সরানো হলো রান্নার সরঞ্জাম রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’ অভিযোগ আনল ফিফা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো দুই ঈদ মনপুরায় ১০০ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

মেহেরপুরের গাংনীতে মাটি খুঁড়ে মিলল ৯৬টি মাইন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে বাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় ৯৬টি মাইন উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার প্রবাসী নুরুজ্জামান কালুর মালিকানাধীন ৭ শতাংশ জমিতে শ্রমিকেরা মাটি কাটার সময় ছয়টি ধাতব বস্তু দেখতে পান। বস্তুগুলোর গায়ে ‘পি ডি এফ জি এল ৬৩, লট ৩৭, মাইন ১৯৬৭’ লেখা ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং নিরাপত্তা জোরদার করে। এরপর এগুলো উদ্ধারের জন্য সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সাথে যোগাযোগ করা হয়।

যশোর সেনানিবাস থেকে আসা সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলটি আজ বেলা দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেনাসদস্যরা প্রথমে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করে পুরো এলাকা পরীক্ষা করেন এবং পরে খনন শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে খনন চালিয়ে একে একে ৯৬টি মাইন উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন এবং ৭৯টি মানববিধ্বংসী অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন রয়েছে। উদ্ধার শেষে মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করার জন্য সেনাবাহিনী পাশের মধুগাড়ি মাঠে নিয়ে গেছে, যেখানে বর্তমানে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার কাজ চলছে।

গাংনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস জানিয়েছেন, পুরো এলাকা পুলিশ ও বিজিবির নজরদারিতে ছিল। উদ্ধার হওয়া মাইনগুলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কৌশলগত কারণে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পুঁতে রেখে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা জানান, ১৯৭১ সালে বেতবাড়িয়া গ্রামের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে বেংগাড়ি মাঠে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প ছিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে তাদের সম্মুখযুদ্ধ হয়েছিল। এলাকা ছেড়ে পালানোর সময় পাকিস্তানি বাহিনী মাইনগুলো ফেলে রেখে যেতে পারে।

স্থানীয় প্রবীণ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্যমতে, আড়াই কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামের বেংগাড়ি মাঠে ১৯৭১ সালের ১১-১২ নভেম্বর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। বীর প্রতীক ওয়ালিউল হোসেনসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর সদস্য সেখানে শহীদ হন। মুক্তিবাহিনীর প্রবল আক্রমণে দিশাহারা হয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বেতবাড়িয়া গ্রাম হয়ে কুষ্টিয়া সদরে পালানোর সময় এই মাইনগুলো পুঁতে রেখেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন ৬৪ কেজি বা তার বেশি ওজনের চাপে বিস্ফোরিত হয়, আর অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন আরও ভারী চাপে সক্রিয় হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামিনুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

মেহেরপুরের গাংনীতে মাটি খুঁড়ে মিলল ৯৬টি মাইন

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে বাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় ৯৬টি মাইন উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার প্রবাসী নুরুজ্জামান কালুর মালিকানাধীন ৭ শতাংশ জমিতে শ্রমিকেরা মাটি কাটার সময় ছয়টি ধাতব বস্তু দেখতে পান। বস্তুগুলোর গায়ে ‘পি ডি এফ জি এল ৬৩, লট ৩৭, মাইন ১৯৬৭’ লেখা ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং নিরাপত্তা জোরদার করে। এরপর এগুলো উদ্ধারের জন্য সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সাথে যোগাযোগ করা হয়।

যশোর সেনানিবাস থেকে আসা সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলটি আজ বেলা দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেনাসদস্যরা প্রথমে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করে পুরো এলাকা পরীক্ষা করেন এবং পরে খনন শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে খনন চালিয়ে একে একে ৯৬টি মাইন উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন এবং ৭৯টি মানববিধ্বংসী অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন রয়েছে। উদ্ধার শেষে মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করার জন্য সেনাবাহিনী পাশের মধুগাড়ি মাঠে নিয়ে গেছে, যেখানে বর্তমানে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার কাজ চলছে।

গাংনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস জানিয়েছেন, পুরো এলাকা পুলিশ ও বিজিবির নজরদারিতে ছিল। উদ্ধার হওয়া মাইনগুলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কৌশলগত কারণে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পুঁতে রেখে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা জানান, ১৯৭১ সালে বেতবাড়িয়া গ্রামের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে বেংগাড়ি মাঠে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প ছিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে তাদের সম্মুখযুদ্ধ হয়েছিল। এলাকা ছেড়ে পালানোর সময় পাকিস্তানি বাহিনী মাইনগুলো ফেলে রেখে যেতে পারে।

স্থানীয় প্রবীণ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্যমতে, আড়াই কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামের বেংগাড়ি মাঠে ১৯৭১ সালের ১১-১২ নভেম্বর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। বীর প্রতীক ওয়ালিউল হোসেনসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর সদস্য সেখানে শহীদ হন। মুক্তিবাহিনীর প্রবল আক্রমণে দিশাহারা হয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বেতবাড়িয়া গ্রাম হয়ে কুষ্টিয়া সদরে পালানোর সময় এই মাইনগুলো পুঁতে রেখেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন ৬৪ কেজি বা তার বেশি ওজনের চাপে বিস্ফোরিত হয়, আর অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন আরও ভারী চাপে সক্রিয় হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামিনুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo