ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘ছোটদের সময় প্রকাশনী’র ৮ নতুন বইয়ের প্রকাশ কৃষকরাই দেশের শ্রেষ্ঠ মানুষ, তাদের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ: রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদপুরে জমি দখলের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই কর্ণফুলী ইপিজেডে ২০ বছরে বিনিয়োগ ৪১২ গুণ বৃদ্ধি নদীর সংখ্যা আছে, কিন্তু প্রাণ হারিয়েছে বাংলাদেশের নদ-নদী আলোকঝাড়ীর ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের মৃত্যুতে হুইপের শোক চট্টগ্রাম আদালতে নারীকে টেনেহিঁচড়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: কূটনীতিই একমাত্র সমাধানের পথ, দাবি তেহরানের দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি সিগারেটের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ: ৬৫ থেকে ২১০ টাকা

একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত ছয় মাসের শিশু ফারিস্তা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে (শিশু হাসপাতাল) ছয় মাসের শিশু ফারিস্তা নূর একই সঙ্গে হাম ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালকসহ চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম জানিয়েছেন, শিশুটির অবস্থা বিবেচনায় আইসিইউর প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

ফারিস্তা নূরের মা নীলা বেগম জানান, তাঁদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে। তাঁর স্বামী নূর আলম একজন মুদিদোকানদার। তাঁদের আরও দুটি ছেলে রয়েছে, যাদের বয়স ১৩ ও ৯ বছর। নীলা বেগম নিজে এবং তাঁর দুই ছেলে সব টিকা নিলেও কোলের মেয়েটি কীভাবে হামে আক্রান্ত হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। গত মাসে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ফারিস্তা এই হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছিল এবং ২৫ জুলাই ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরেছিল। কয়েক দিন পর তার জ্বর আসে, যা ছেড়ে আবার ফিরে আসে। মদনপুরে পরীক্ষার পর ডেঙ্গু ধরা পড়ে এবং পরবর্তীতে শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয়। গত বৃহস্পতিবার তাকে পুনরায় শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে হামের লক্ষণ স্পষ্ট এবং ডেঙ্গু পরীক্ষাতেও সংক্রমণ ধরা পড়েছে। নীলা বেগম জানান, বাড়ির আশপাশে কারও হামের কথা তিনি জানেন না, তবে কয়েক মাস আগে শিশুটির এক চাচা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাস থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। মে, জুন ও জুলাই মাসে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল যথাক্রমে ১০, ২৫ ও ৪৯ জন। এ বছর মোট ১৫০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু এই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে। অন্যদিকে মে মাস থেকেই হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা কমছে। মে, জুন ও জুলাই মাসে হামের রোগী ভর্তি হয়েছে ১৯৮, ১৫২ ও ১৪৫ জন। এ বছর ২ হাজার ১৩১ জন হামে আক্রান্ত শিশু এখানে চিকিৎসা নিয়েছে।

বিশিষ্ট শিশুবিশেষজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা জানান, ফারিস্তা নূরকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন। তার শরীরে যেন ফ্লুইডের ঘাটতি না হয় এবং শ্বাসকষ্ট দেখা না দেয়, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের সজাগ থাকতে হবে। দুটি রোগকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় রোগী মারা গেছে। এ নিয়ে এ বছর হামে মোট ৮৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ জন ব্যক্তি হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান, যার মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ১১৫ জনের। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৭৫ জনের এবং নিশ্চিত হামে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৬৭২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন দুজন। এ বছর জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ১৯ হাজার ৩৪৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, মারা গেছেন ৬১ জন এবং গতকাল ১ হাজার ৪৪১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, শিশুদের মশা থেকে দূরে রাখা এবং অসুস্থ হলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত ছয় মাসের শিশু ফারিস্তা

আপডেট সময় : ১২:০৬:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে (শিশু হাসপাতাল) ছয় মাসের শিশু ফারিস্তা নূর একই সঙ্গে হাম ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালকসহ চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম জানিয়েছেন, শিশুটির অবস্থা বিবেচনায় আইসিইউর প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

ফারিস্তা নূরের মা নীলা বেগম জানান, তাঁদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে। তাঁর স্বামী নূর আলম একজন মুদিদোকানদার। তাঁদের আরও দুটি ছেলে রয়েছে, যাদের বয়স ১৩ ও ৯ বছর। নীলা বেগম নিজে এবং তাঁর দুই ছেলে সব টিকা নিলেও কোলের মেয়েটি কীভাবে হামে আক্রান্ত হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। গত মাসে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ফারিস্তা এই হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছিল এবং ২৫ জুলাই ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরেছিল। কয়েক দিন পর তার জ্বর আসে, যা ছেড়ে আবার ফিরে আসে। মদনপুরে পরীক্ষার পর ডেঙ্গু ধরা পড়ে এবং পরবর্তীতে শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয়। গত বৃহস্পতিবার তাকে পুনরায় শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে হামের লক্ষণ স্পষ্ট এবং ডেঙ্গু পরীক্ষাতেও সংক্রমণ ধরা পড়েছে। নীলা বেগম জানান, বাড়ির আশপাশে কারও হামের কথা তিনি জানেন না, তবে কয়েক মাস আগে শিশুটির এক চাচা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাস থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। মে, জুন ও জুলাই মাসে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল যথাক্রমে ১০, ২৫ ও ৪৯ জন। এ বছর মোট ১৫০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু এই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে। অন্যদিকে মে মাস থেকেই হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা কমছে। মে, জুন ও জুলাই মাসে হামের রোগী ভর্তি হয়েছে ১৯৮, ১৫২ ও ১৪৫ জন। এ বছর ২ হাজার ১৩১ জন হামে আক্রান্ত শিশু এখানে চিকিৎসা নিয়েছে।

বিশিষ্ট শিশুবিশেষজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা জানান, ফারিস্তা নূরকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন। তার শরীরে যেন ফ্লুইডের ঘাটতি না হয় এবং শ্বাসকষ্ট দেখা না দেয়, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের সজাগ থাকতে হবে। দুটি রোগকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় রোগী মারা গেছে। এ নিয়ে এ বছর হামে মোট ৮৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ জন ব্যক্তি হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান, যার মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ১১৫ জনের। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৭৫ জনের এবং নিশ্চিত হামে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৬৭২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন দুজন। এ বছর জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ১৯ হাজার ৩৪৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, মারা গেছেন ৬১ জন এবং গতকাল ১ হাজার ৪৪১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, শিশুদের মশা থেকে দূরে রাখা এবং অসুস্থ হলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo