ইতালির ভিসায় অন্য নারী, চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

- আপডেট সময় : ০৮:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে এক পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে আরেক নারীকে ইতালিতে পাঠানোর অভিযোগে একটি মানব পাচার চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গুলশান ১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোমবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন বেলায়েত হোসেন (৪০), নাজমুল হাসান (১৯), মেহেদী হাসান (৩৭), সোলাইমান সুমন (৩২), ফজলে রাব্বী (২৭), তৌহিদুর রহমান (২৪) ও কাওসার হোসেন (৪২)।
সিআইডির ভাষ্যমতে, এই চক্রটি ইতালিতে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত এবং জালিয়াতির মাধ্যমে মানব পাচার করত। ভুক্তভোগী এক নারী গুলশান থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করার পর তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অভিযানে চক্রটির কাছ থেকে ৫৬টি পাসপোর্ট, ১৫৩টি সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ, একটি এম্বোস সিল এবং আড়াই লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারী ইতালিতে থাকা স্বামীর কাছে চার সন্তানসহ যাওয়ার জন্য দূতাবাসে পাসপোর্ট জমা দিয়েছিলেন। পাসপোর্ট নবায়নের সময় তার পরিচয় হয় আসামি নাজমুল হাসানের সঙ্গে। নাজমুল তাকে গুলশান ১ এলাকার একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে নিয়ে যান, যেখানে বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা ভিসা করে দেওয়ার কথা বলে আর্থিক চুক্তিতে লিপ্ত হন এবং ভিসা হওয়ার পর টাকা দাবি করেন। নারীটি টাকা দিতে দেরি করায় তারা তার পাসপোর্ট আটকে রাখে। এরপর ১৯ এপ্রিল ও ১১ মে দুই দফায় ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা জমা দিলে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী নারী যখন সন্তানদের নিয়ে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে যান, তখন কর্মকর্তারা তাকে জানান যে তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে ২৪ এপ্রিলই অন্য এক নারী ইতালি চলে গেছেন। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তিনি সিআইডির মানব পাচার শাখায় অভিযোগ জানান। প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানিয়েছে, চক্রের হোতা বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত। তিনি ২০২৪ সালে বিমানবন্দর থানায় হওয়া একটি মামলায় জামিনে রয়েছেন। বর্তমানে জব্দ করা আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার পাশাপাশি চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।




























