ঢাকা ১১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিউইয়র্কে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ

নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রতীক্ষা আরও দীর্ঘায়িত

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:১৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নবম জাতীয় পে-স্কেল পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতীক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পে-স্কেল সংক্রান্ত সুপারিশমালা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। সরকারি ব্যয় সংকোচন ও বিদ্যমান আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এই পে-স্কেল নিয়ে বিস্তারিত চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি সচিব কমিটি। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আবারও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত ১২ জুলাই থেকে ঢাকা সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিরোধিতা করে। সংস্থাটির মতে, বর্তমান আর্থিক সংকটের মধ্যে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করলে মূল্যস্ফীতির চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। অর্থের সংস্থানের উৎস নিশ্চিত না করে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে আইএমএফ।

অর্থবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল পয়লা জুলাই থেকে কার্যকর দেখানো হলেও গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমান সরকার প্রস্তাবিত পে-স্কেলটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে, যেখানে প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং পরবর্তী দুই ধাপে অন্যান্য সুবিধাদি কার্যকর করা হবে। তবে প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে কাজ চলছে। সুপারিশ অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের বেতন ৪৮ হাজার ৪৩৪ টাকা এবং প্রথম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার জানান, সচিব কমিটি পে-স্কেল নিয়ে কাজ করছে এবং তাদের সুপারিশ পাওয়ার পর সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। নতুন পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সুবিধা এবং পেনশনভোগীদের সমন্বিত সুবিধা দেওয়ার জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক সংস্থান রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সে অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া, এই বেতন কাঠামোতে ২১টি গ্রেড ও ৮৯টি ধাপের প্রস্তাবনা এবং ৮৩৬টি পদের বেতন স্কেল পুনর্নির্ধারণের বিষয়টিও পর্যালোচনায় রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রতীক্ষা আরও দীর্ঘায়িত

আপডেট সময় : ১০:১৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

নবম জাতীয় পে-স্কেল পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতীক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পে-স্কেল সংক্রান্ত সুপারিশমালা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। সরকারি ব্যয় সংকোচন ও বিদ্যমান আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এই পে-স্কেল নিয়ে বিস্তারিত চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি সচিব কমিটি। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আবারও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত ১২ জুলাই থেকে ঢাকা সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিরোধিতা করে। সংস্থাটির মতে, বর্তমান আর্থিক সংকটের মধ্যে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করলে মূল্যস্ফীতির চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। অর্থের সংস্থানের উৎস নিশ্চিত না করে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে আইএমএফ।

অর্থবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল পয়লা জুলাই থেকে কার্যকর দেখানো হলেও গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমান সরকার প্রস্তাবিত পে-স্কেলটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে, যেখানে প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং পরবর্তী দুই ধাপে অন্যান্য সুবিধাদি কার্যকর করা হবে। তবে প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে কাজ চলছে। সুপারিশ অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের বেতন ৪৮ হাজার ৪৩৪ টাকা এবং প্রথম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার জানান, সচিব কমিটি পে-স্কেল নিয়ে কাজ করছে এবং তাদের সুপারিশ পাওয়ার পর সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। নতুন পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সুবিধা এবং পেনশনভোগীদের সমন্বিত সুবিধা দেওয়ার জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক সংস্থান রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সে অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া, এই বেতন কাঠামোতে ২১টি গ্রেড ও ৮৯টি ধাপের প্রস্তাবনা এবং ৮৩৬টি পদের বেতন স্কেল পুনর্নির্ধারণের বিষয়টিও পর্যালোচনায় রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh