ঢাকা ১০:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

পুরুষ ও নারীর রাগের প্রকাশে রয়েছে ভিন্নতা, জানুন নিয়ন্ত্রণের উপায়

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সাধারণত সমাজে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, নারীদের তুলনায় পুরুষেরা বেশি রাগী হয়ে থাকেন। পুরুষদের মাঝে বাহ্যিক আগ্রাসন বা সহিংস আচরণ বেশি দেখা যাওয়ার কারণে এমন ধারণা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই রাগ অনুভব করার হার এবং এর তীব্রতা সমান। তাদের মধ্যে মূল পার্থক্যটি দেখা যায় রাগ প্রকাশের ধরনের ক্ষেত্রে। পুরুষেরা সাধারণত রেগে গেলে তা আগ্রাসী আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পছন্দ করেন এবং রাগ চেপে রাখা তাদের জন্য বেশ কঠিন হয়।

অন্যদিকে, নারীরা রাগের প্রাথমিক ধাক্কা বা তীব্র আবেগ নিয়ন্ত্রণে অনেক বেশি পারদর্শী হয়ে থাকেন। এর পেছনে মানুষের মস্তিষ্কের গঠনগত একটি ভূমিকা রয়েছে। মস্তিষ্কের যে অংশটি মানুষের আগ্রাসী আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'অরবিটাল ফ্রন্টাল কর্টেক্স' বলা হয়, সেটি নারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বড়। তবে কেবল মস্তিষ্কের গঠনই নয়, সামাজিক পরিবেশ এবং পারিবারিক লালনপালনও নারী ও পুরুষের এই আচরণগত পার্থক্যের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে。

ইতিহাসের পাতায় রাগকে সবসময় ক্ষতিকর বা পাপ হিসেবে গণ্য করা হলেও, সীমিত মাত্রায় রাগের কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এটি অনেক সময় মানুষকে নিজের লক্ষ্য অর্জনে কঠোর পরিশ্রম করার জন্য একটি শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে রাগ সবসময় ইতিবাচক ফল আনে না। তাই সুস্থ জীবনের জন্য নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই রাগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল জানা অত্যন্ত জরুরি।

যেকোনো উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কিছুটা সময় বিরতি নিন। এতে পরিস্থিতি শান্তভাবে চিন্তা করার সুযোগ তৈরি হয়।রাগের মূল কারণটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। অনেক সময় রাগের পেছনে মানসিক কষ্ট, আঘাত বা ভয়ের মতো অনুভূতি লুকিয়ে থাকে।পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পেছনে নিজের কোনো ভুল বা ভূমিকা আছে কি না, তা ঠাণ্ডা মাথায় বিবেচনা করুন।উত্তেজিত অবস্থায় দ্রুত শ্বাস না নিয়ে ধীরে ধীরে দীর্ঘ শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। এটি শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমিয়ে স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে সাহায্য করে।নিয়মিত ধ্যান (মেডিটেশন), যোগব্যায়াম এবং পেশি শিথিলকরণের অভ্যাস আবেগ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রদান করে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

পুরুষ ও নারীর রাগের প্রকাশে রয়েছে ভিন্নতা, জানুন নিয়ন্ত্রণের উপায়

আপডেট সময় : ১০:১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

সাধারণত সমাজে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, নারীদের তুলনায় পুরুষেরা বেশি রাগী হয়ে থাকেন। পুরুষদের মাঝে বাহ্যিক আগ্রাসন বা সহিংস আচরণ বেশি দেখা যাওয়ার কারণে এমন ধারণা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই রাগ অনুভব করার হার এবং এর তীব্রতা সমান। তাদের মধ্যে মূল পার্থক্যটি দেখা যায় রাগ প্রকাশের ধরনের ক্ষেত্রে। পুরুষেরা সাধারণত রেগে গেলে তা আগ্রাসী আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পছন্দ করেন এবং রাগ চেপে রাখা তাদের জন্য বেশ কঠিন হয়।

অন্যদিকে, নারীরা রাগের প্রাথমিক ধাক্কা বা তীব্র আবেগ নিয়ন্ত্রণে অনেক বেশি পারদর্শী হয়ে থাকেন। এর পেছনে মানুষের মস্তিষ্কের গঠনগত একটি ভূমিকা রয়েছে। মস্তিষ্কের যে অংশটি মানুষের আগ্রাসী আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'অরবিটাল ফ্রন্টাল কর্টেক্স' বলা হয়, সেটি নারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বড়। তবে কেবল মস্তিষ্কের গঠনই নয়, সামাজিক পরিবেশ এবং পারিবারিক লালনপালনও নারী ও পুরুষের এই আচরণগত পার্থক্যের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে。

ইতিহাসের পাতায় রাগকে সবসময় ক্ষতিকর বা পাপ হিসেবে গণ্য করা হলেও, সীমিত মাত্রায় রাগের কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এটি অনেক সময় মানুষকে নিজের লক্ষ্য অর্জনে কঠোর পরিশ্রম করার জন্য একটি শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে রাগ সবসময় ইতিবাচক ফল আনে না। তাই সুস্থ জীবনের জন্য নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই রাগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল জানা অত্যন্ত জরুরি।

যেকোনো উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কিছুটা সময় বিরতি নিন। এতে পরিস্থিতি শান্তভাবে চিন্তা করার সুযোগ তৈরি হয়।রাগের মূল কারণটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। অনেক সময় রাগের পেছনে মানসিক কষ্ট, আঘাত বা ভয়ের মতো অনুভূতি লুকিয়ে থাকে।পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পেছনে নিজের কোনো ভুল বা ভূমিকা আছে কি না, তা ঠাণ্ডা মাথায় বিবেচনা করুন।উত্তেজিত অবস্থায় দ্রুত শ্বাস না নিয়ে ধীরে ধীরে দীর্ঘ শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। এটি শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমিয়ে স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে সাহায্য করে।নিয়মিত ধ্যান (মেডিটেশন), যোগব্যায়াম এবং পেশি শিথিলকরণের অভ্যাস আবেগ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রদান করে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin