ঢাকা ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
না ফেরার দেশে সাবেক স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জমির উদ্দিন সরকার ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসচাপায় ৫ জন নিহত, বিক্ষুব্ধ জনতার অগ্নিসংযোগ সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডের গোল নিয়ে বিতর্ক: ফিফার ব্যাখ্যায় যা জানা গেল শেখ হাসিনার পরিবারের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি বিশ্বকাপের ম্যাচে ডাইভ দিয়ে লাল কার্ড দেখলেন সুইজারল্যান্ডের এমবোলো সমতায় ফেরার পর ১০ জনের দলে পরিণত সুইজারল্যান্ড বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত কলকাতায় নতুন সিনেমার প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন জয়া আহসান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা

শেখ হাসিনার পরিবারের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৯:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির একটি অংশ ক্রোক করা হলেও বেশিরভাগই এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ও বিভিন্ন নিম্ন আদালত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিলেও অজ্ঞাত কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো মহল থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে আইসিটি ভারতে পলাতক হাসিনার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার বিভিন্ন আদালত সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানা, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং টিউলিপ সিদ্দিকের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গাজীপুরের ‘টিউলিপ টেরিটরি’ এখনো শেখ পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া ধানমন্ডির ‘সুধা সদন’ ক্রোকের আদেশ থাকলেও ভবনটি বর্তমানে পরিত্যক্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় রয়েছে, যেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা গড়ে উঠেছে। তবে সরকার হাসিনার ব্যাংকের লকারে থাকা ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।

আইনজীবী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, এই ঢিলেমি ন্যায়বিচারের পথে অন্তরায়। আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালতের রায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত নির্বাহী বিভাগের। ধানমন্ডির ৫৪ নম্বর ‘সুধা সদন’ বাড়িটি মূলত হাসিনা, জয় ও পুতুলের মালিকানাধীন ছিল, যা এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল আদালত হাসিনার পরিবারের পাঁচ সদস্যের বাড়ি ও জমি ক্রোকের যে আদেশ দিয়েছিল, তার মধ্যে টিউলিপের নামে গুলশানের ৭১ নম্বর রোডের ১১ নম্বর ভবনের দুই হাজার ৪৩৬ (৪৩৬) বর্গফুট আয়তনের বি/২০১ (২০১) নম্বর ফ্ল্যাটটি ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। রেহানার নামে থাকা রাজধানীর সেগুনবাগিচার ৭৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের ২০৬ (২০৬) নম্বর ফ্ল্যাট, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমি, ববির নামে থাকা নিকেতনের সাততলা বাড়ির চারতলায় কার পার্কিংসহ এক হাজার ৯২০ (৯২০) বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং একই আয়তনের তৃতীয় তলার আরেকটি ফ্ল্যাটও ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। একই এলাকার অন্য একটি ভবনের কার পার্কিংসহ দ্বিতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় এক হাজার ৮০০ (৮০০) বর্গফুট করে চারটি ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। তবে এসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ এখনো কার্যকর হয়নি বলে জানান দুদকের এক কর্মকর্তা। পুতুলের বারিধারার প্রায় ৫ কোটি টাকার বাড়ি, খুলনা ও গোপালগঞ্জে তাদের বিভিন্ন জমি এবং রেহানা ও তার সন্তানদের ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এখনো থমকে আছে।

অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে হাসিনা ও তার পরিবারের ১২৪টি ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন ট্রাস্টের হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে হাসিনা, রেহানা, জয় ও পুতুলের ৩১টি ব্যাংক হিসাবের ৩৯৪ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া পুতুলের গুলশানের একটি ফ্ল্যাট এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের ১৪টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৪৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিপুল অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শেখ হাসিনার পরিবারের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি

আপডেট সময় : ০৯:১৯:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
print news

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির একটি অংশ ক্রোক করা হলেও বেশিরভাগই এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ও বিভিন্ন নিম্ন আদালত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিলেও অজ্ঞাত কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো মহল থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে আইসিটি ভারতে পলাতক হাসিনার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার বিভিন্ন আদালত সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানা, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং টিউলিপ সিদ্দিকের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গাজীপুরের ‘টিউলিপ টেরিটরি’ এখনো শেখ পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া ধানমন্ডির ‘সুধা সদন’ ক্রোকের আদেশ থাকলেও ভবনটি বর্তমানে পরিত্যক্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় রয়েছে, যেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা গড়ে উঠেছে। তবে সরকার হাসিনার ব্যাংকের লকারে থাকা ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।

আইনজীবী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, এই ঢিলেমি ন্যায়বিচারের পথে অন্তরায়। আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালতের রায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত নির্বাহী বিভাগের। ধানমন্ডির ৫৪ নম্বর ‘সুধা সদন’ বাড়িটি মূলত হাসিনা, জয় ও পুতুলের মালিকানাধীন ছিল, যা এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল আদালত হাসিনার পরিবারের পাঁচ সদস্যের বাড়ি ও জমি ক্রোকের যে আদেশ দিয়েছিল, তার মধ্যে টিউলিপের নামে গুলশানের ৭১ নম্বর রোডের ১১ নম্বর ভবনের দুই হাজার ৪৩৬ (৪৩৬) বর্গফুট আয়তনের বি/২০১ (২০১) নম্বর ফ্ল্যাটটি ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। রেহানার নামে থাকা রাজধানীর সেগুনবাগিচার ৭৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের ২০৬ (২০৬) নম্বর ফ্ল্যাট, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমি, ববির নামে থাকা নিকেতনের সাততলা বাড়ির চারতলায় কার পার্কিংসহ এক হাজার ৯২০ (৯২০) বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং একই আয়তনের তৃতীয় তলার আরেকটি ফ্ল্যাটও ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। একই এলাকার অন্য একটি ভবনের কার পার্কিংসহ দ্বিতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় এক হাজার ৮০০ (৮০০) বর্গফুট করে চারটি ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। তবে এসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ এখনো কার্যকর হয়নি বলে জানান দুদকের এক কর্মকর্তা। পুতুলের বারিধারার প্রায় ৫ কোটি টাকার বাড়ি, খুলনা ও গোপালগঞ্জে তাদের বিভিন্ন জমি এবং রেহানা ও তার সন্তানদের ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এখনো থমকে আছে।

অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে হাসিনা ও তার পরিবারের ১২৪টি ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন ট্রাস্টের হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে হাসিনা, রেহানা, জয় ও পুতুলের ৩১টি ব্যাংক হিসাবের ৩৯৪ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া পুতুলের গুলশানের একটি ফ্ল্যাট এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের ১৪টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৪৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিপুল অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।