হরমুজ প্রণালি নিয়ে মার্কিন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান
- আপডেট সময় : ১০:১৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত সাত দিনের পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিক্রিয়ার পর্যালোচনা করছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে তেহরান তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব প্রদান করবে।
সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি জানান, বর্তমানে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে এবং আলোচনা প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান যে সাত দিনের পরিকল্পনা পেশ করেছিল, তার জবাবে মার্কিন পক্ষ থেকে মতামত পাওয়া গেছে এবং বর্তমানে সেগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তেহরানের প্রস্তাবিত এই সাত দিনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার পথ প্রশস্ত করা। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে আরাকচি জানিয়েছিলেন, কাতারের মধ্যস্থতায় পাঠানো এই প্রস্তাব যদি ওয়াশিংটন মেনে নেয়, তবে ইরান কৌশলগত এই জলপথ খুলে দিতে সম্মত।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এরপর ষষ্ঠ দিনে প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক হবে এবং সপ্তম দিনে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে। ইরানের দাবির তালিকায় রয়েছে শত্রুতার অবসান, জব্দকৃত সম্পদ ছাড়, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া।
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছিলেন যে, কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের জবাব আরাকচির হাতে পৌঁছেছে। ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং জুনের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ওয়াশিংটনকে তাদের দেওয়া অঙ্গীকার পূরণের আহ্বান জানিয়েছে। তেহরানের ভাষ্যমতে, তাদের শর্ত পূরণ ও মার্কিন অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই জলপথ পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে তেহরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পুরো অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে। যদিও জুনে উভয় দেশ নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল, কিন্তু নিরাপত্তা সংক্রান্ত মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন এখনো আটকে আছে।





























