আবারও কি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দিকে এগোচ্ছে সৌদি-আমিরাত?
- আপডেট সময় : ০২:১১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে দেশ দুটি আবারও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দিকে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক কিছু তৎপরতা সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও উপপ্রধানমন্ত্রী মনসুর বিন জায়েদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে রিয়াদে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরে তার সঙ্গে ছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটির মহাসচিব আলী আল শামসি এবং ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি, ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান আলী আল নেয়াদিসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দৈনিক ‘দ্য ন্যাশনাল’ এই সফরকে রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যকার গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশ দুটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রেখে আসছে। তবে ইয়েমেন সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশ দুটির মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। এক দশক আগে ইয়েমেনে দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হওয়া সৌদি আরব ২০২২ সালে অনেক কষ্টে সেখান থেকে নিস্তার পায়। ইয়েমেনে সৌদি আরব সরকারকে সমর্থন দিলেও আমিরাত ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে (এসটিসি)’ সহায়তা করেছিল। এছাড়া সুদান, ইরান ও ওপেক থেকে আমিরাতের বেরিয়ে আসা এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের মতো বিষয়গুলোতেও তাদের দৃষ্টিভঙ্গির অমিল ছিল। ১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লবের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরি এবং ভবিষ্যৎ নীতিমালা নির্ধারণের লক্ষ্যে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল গঠিত হয়েছিল।
তবে বর্তমানে আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট বদলেছে। হুথিদের হুমকির মুখে রিয়াদ এখন পাকিস্তান ও তুরস্কের দিকে ঝুঁকেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আবুধাবি সফরের পরের দিনই মনসুর বিন জায়েদের সৌদি সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ইসরাইলি গণমাধ্যমের দাবি, এ সময় আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামো ও ইরান-হুথি হুমকির বিরুদ্ধে আলোচনা হয়েছে। ইরান সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের তেল পাইপলাইন ও জাহাজের ওপর ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান শুরা কাউন্সিলে ভাষণে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অখণ্ডতা জোরদারের ওপর জোর দিয়েছেন। মূলত, মোহাম্মদ বিন সালমানের মেন্টর হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে পুনরায় ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি এই অঞ্চলে পারস্পরিক সমঝোতার নতুন প্রক্রিয়ার সূচনা হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও আমিরাতের ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে ইসরাইলের সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে আমিরাত একটি কার্যকর রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে।




























