ঢাকা ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দিল্লিতে আটক সিজেপির তিন নেতাকে মুক্তি দিল আদালত রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলা: ঢাকা থেকে ৫ ফ্লাইট বাতিল পুলিশি সতর্কতার পর মুক্তি পেলেন ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি রিয়াদে হুতিদের হামলায় নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে সরকার লোভ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কবলে বিপন্ন পরিযায়ী পাখির অস্তিত্ব হুথিদের অবরোধে তাইজের হাসপাতালগুলোতে চরম মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা শীতলপাটির ঐতিহ্য রক্ষায় রাবির চার শিক্ষার্থীর স্যান্ডেল তৈরির উদ্যোগ নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র বিতর্ক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের পরা স্যুট ঘিরে আলোচনায় বাংলাদেশের অনন্ত গ্রুপ দিল্লিতে গণআটকের ঘটনায় জাতিসংঘের উদ্বেগ

মার্কিন হামলায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হন মোজতবা খামেনি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:০২:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আহত হওয়ার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য মহসেন হেইদারি। কাতারের টেলিভিশন চ্যানেল আল আরাবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবনে হামলার মাধ্যমে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধ শুরু করে। ওই হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হন। এরপরের দিনগুলোতে তেহরানের তিনটি ভিন্ন ভিন্ন হাসপাতালেও বোমা হামলা চালানো হয়। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে তৃতীয় একটি হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি আহত অবস্থায় সেখানে ছিলেন এবং উদ্ধারের পর অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বা তাঁর কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

মহসেন হেইদারির ভাষ্যমতে, গত ৮ মার্চ যখন মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তখন তিনি বিষয়টি জানতেন না। রাষ্ট্রীয় টিভিতে ঘোষণাটি সম্প্রচারিত হওয়ার পরই তিনি তা জানতে পারেন। হেইদারি জানান, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি আইনগত ও ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার কারণে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে বাধ্য হন।

বিশেষজ্ঞ পরিষদের ওপর হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন হেইদারি। তিনি জানান, কোম শহরে পরিষদের সচিবালয়ে বোমা হামলায় আটজন নিহত হন এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতার বিষয়ে তৈরি করা প্রতিবেদন ও সুপারিশমালা পুড়ে যায়। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রথম হামলার এক সপ্তাহ পর পরিষদের সদস্যদের একটি গোপন কক্ষে তলব করা হয়। সেখানে উপস্থিত হওয়ার আগেই প্রত্যেক সদস্য কাগজে তাঁদের পছন্দের ব্যক্তির নাম লিখে রেখেছিলেন।

সভায় হেইদারিই প্রথম মোজতবা খামেনির নাম প্রস্তাব করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হেইদারি বলেন, ‘শত্রুর অবস্থান বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ছাড়া অন্য কাউকেই সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করব না।’ তিনি আরও জানান, মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন এবং নেতৃত্ব দেওয়ার মতো ধর্মীয় যোগ্যতা ও দক্ষতা তাঁর রয়েছে। ভোটাভুটিতে উপস্থিত ৫৯ জন সদস্যের মধ্যে ৫০ জন মোজতবা খামেনির পক্ষে ভোট দেন, আটজন ভোট দেন আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফিকে এবং একজন ভোটদানে বিরত থাকেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

মার্কিন হামলায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হন মোজতবা খামেনি

আপডেট সময় : ০৯:০২:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আহত হওয়ার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য মহসেন হেইদারি। কাতারের টেলিভিশন চ্যানেল আল আরাবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবনে হামলার মাধ্যমে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধ শুরু করে। ওই হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হন। এরপরের দিনগুলোতে তেহরানের তিনটি ভিন্ন ভিন্ন হাসপাতালেও বোমা হামলা চালানো হয়। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে তৃতীয় একটি হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি আহত অবস্থায় সেখানে ছিলেন এবং উদ্ধারের পর অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বা তাঁর কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

মহসেন হেইদারির ভাষ্যমতে, গত ৮ মার্চ যখন মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তখন তিনি বিষয়টি জানতেন না। রাষ্ট্রীয় টিভিতে ঘোষণাটি সম্প্রচারিত হওয়ার পরই তিনি তা জানতে পারেন। হেইদারি জানান, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি আইনগত ও ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার কারণে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে বাধ্য হন।

বিশেষজ্ঞ পরিষদের ওপর হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন হেইদারি। তিনি জানান, কোম শহরে পরিষদের সচিবালয়ে বোমা হামলায় আটজন নিহত হন এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতার বিষয়ে তৈরি করা প্রতিবেদন ও সুপারিশমালা পুড়ে যায়। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রথম হামলার এক সপ্তাহ পর পরিষদের সদস্যদের একটি গোপন কক্ষে তলব করা হয়। সেখানে উপস্থিত হওয়ার আগেই প্রত্যেক সদস্য কাগজে তাঁদের পছন্দের ব্যক্তির নাম লিখে রেখেছিলেন।

সভায় হেইদারিই প্রথম মোজতবা খামেনির নাম প্রস্তাব করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হেইদারি বলেন, ‘শত্রুর অবস্থান বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ছাড়া অন্য কাউকেই সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করব না।’ তিনি আরও জানান, মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন এবং নেতৃত্ব দেওয়ার মতো ধর্মীয় যোগ্যতা ও দক্ষতা তাঁর রয়েছে। ভোটাভুটিতে উপস্থিত ৫৯ জন সদস্যের মধ্যে ৫০ জন মোজতবা খামেনির পক্ষে ভোট দেন, আটজন ভোট দেন আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফিকে এবং একজন ভোটদানে বিরত থাকেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo